ঢাকা,  শনিবার
২৪ জানুয়ারী ২০২৬ , ০৬:০১ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে ভোটারদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করলেন আমিনুল হক * আন্তর্জাতিক বাজারে উত্থানের প্রভাবে দেশে ফের স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি * ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের নামে দলীয় স্বার্থে ধোঁকার অভিযোগ * আমরা দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না: জামায়াত আমির * দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন উৎসর্গের অঙ্গীকারে নির্বাচনমুখী প্রচারণা জোরদার * সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানে তীব্র বিতর্ক * সারাদেশে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করলো বিএনপি * সিলেটে বিএনপির জনসভায় জনস্রোত, নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা * মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, হাতে–হাতিতে আহত অন্তত ১৫ * চার দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তারেক রহমানের কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও রাজনৈতিক বার্তা

সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানে তীব্র বিতর্ক

repoter

প্রকাশিত: ১০:৫৯:১৮পূর্বাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১০:৫৯:১৮পূর্বাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

ছবি: সংগৃহীত ছবি

ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ইরানি সরকার জানায়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভ দমনের বিভিন্ন অভিযানে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন এবং এদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহিদ’ ও ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী’ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্যে, ‘শহিদ’ তালিকায় বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন, আর যেসব ব্যক্তি সরকারি স্থাপনায় হামলা বা অগ্নিসংযোগ করেছে, তাদের সন্ত্রাসী-দাঙ্গাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকার দাবি করছে, নিহতদের মধ্যে শহিদ শ্রেণিভুক্তির সংখ্যা বেশি হওয়া প্রমাণ করে যে রাষ্ট্র কঠোরতার চেয়ে ধৈর্য ও সহনশীলতা দেখিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের প্রতি অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি। বিক্ষোভ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভের নামে নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও সামরিক স্থাপনা টার্গেট করার ঘটনাই অধিকাংশ সংঘর্ষের জন্ম দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারি তথ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিহিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর একটির তথ্যে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ৪ হাজার ৫৬০ জন এবং এর মধ্যে ৪ হাজার ২৫১ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী, ১৯৭ জন নিরাপত্তা কর্মী, ১৮ বছরের কম বয়সী অন্তত ৩৫ জন শিশু-কিশোর এবং ৩৮ জন পথচারী রয়েছেন। সংস্থাটি দাবি করেছে, সরকারি বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ ও সরাসরি লক্ষ্যভেদ করে গুলি চালানোর ফলে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে এবং বেসামরিক হতাহতের বিষয়টি সরকার খাটো করে দেখাচ্ছে। এছাড়া বিক্ষোভ দমনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিচারিক কার্যক্রম, আটক, কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের পরিসংখ্যান নিয়েও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে দ্বিমতের কারণে কেবল দেশের ভেতর নয়, আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের ভাবমূর্তি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং এটি ভূরাজনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। এরই মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ বিবেচনার কথা বলছে, আবার ইরান বলছে, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ। অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ইরানে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট রাজনৈতিক পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি ও সামাজিক স্বাধীনতার ইস্যুতে গড়ে ওঠে এবং সময়ের সঙ্গে তা রাষ্ট্র বনাম বিক্ষোভকারী দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বিক্ষোভও ব্যতিক্রম নয় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে অংশ নেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রবাহ ও প্রচারণার লড়াইও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে; সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম বিক্ষোভকে উসকানিমূলক ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা হিসেবে তুলে ধরলে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি করে এটি জনগণের মৌলিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার ব্যাপার। সরকারের তথ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের তথ্যের বিশাল পার্থক্য ইঙ্গিত করে, বিক্ষোভসহ রাজনৈতিক সংকটের প্রকৃত চিত্র এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে, ইরান যদি মৃত্যুর সংখ্যা ও ঘটনার প্রকৃতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তদন্ত না করে, তাহলে ভবিষ্যতে এটিকে আরও বড় মানবাধিকার সংকট হিসেবে দেখা হতে পারে। অন্যদিকে ইরান বলছে, বিদেশি চাপ উপেক্ষা করে দেশ নিজস্ব গতিতে সংকট মোকাবিলা করবে। এই বিতর্কের মধ্যেই বিক্ষোভে নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার ও স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছে, যদিও তাদের দাবি কতটা বিবেচনায় আসবে তা অনিশ্চিত। রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপে থাকা দেশটির সামাজিক বাস্তবতা কতটা পরিবর্তিত হবে, তা সময়েই প্রমাণ করবে।

repoter