ঢাকা,  শনিবার
২৪ জানুয়ারী ২০২৬ , ০৬:০৫ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে ভোটারদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করলেন আমিনুল হক * আন্তর্জাতিক বাজারে উত্থানের প্রভাবে দেশে ফের স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি * ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের নামে দলীয় স্বার্থে ধোঁকার অভিযোগ * আমরা দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না: জামায়াত আমির * দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন উৎসর্গের অঙ্গীকারে নির্বাচনমুখী প্রচারণা জোরদার * সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানে তীব্র বিতর্ক * সারাদেশে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করলো বিএনপি * সিলেটে বিএনপির জনসভায় জনস্রোত, নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা * মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, হাতে–হাতিতে আহত অন্তত ১৫ * চার দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তারেক রহমানের কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও রাজনৈতিক বার্তা

মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, হাতে–হাতিতে আহত অন্তত ১৫

repoter

প্রকাশিত: ১০:১৭:৩৩পূর্বাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১০:১৭:৩৩পূর্বাহ্ন, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

ছবি: সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগ এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীপন্থী কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন, যা রাজধানীর নির্বাচনী আলোচনার মধ্যে বিরোধী দলের অভ্যন্তরে মাঠ পর্যায়ের ক্ষমতার প্রভাব, ভোট প্রচারণা ও সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিকেলে পীরেরবাগের ৬০ ফুট এলাকায় কয়েকজন নারী জামায়াত সমর্থনের পরিচয় দিয়ে বাড়ি বাড়ি ভোটের প্রচারণায় গেলে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয় এবং উত্তেজনা বাড়তে থাকে; একপর্যায়ে চার নারীকে একটি বাসায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠে। পরে জামায়াত ও ছাত্রশিবির সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে হাতাহাতি, ধাওয়া এবং লাঠিসোঁটা ব্যবহারের ঘটনায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সংঘর্ষ নয়, বরং হাতাহাতি বলেছে এবং গুরুতর মারামারির তথ্য নিশ্চিত করেনি; তবে স্থানীয়দের বিবরণে দুই পক্ষ থেকেই আহতের সংখ্যা দুই অঙ্কে পৌঁছানোর কথা শোনা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনে ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রচারণার মধ্যে মতাদর্শিক ঘনিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে প্রভাব, প্রার্থী সমর্থন, সংগঠনগত কর্তৃত্ব এবং ভোটের কৌশল নিয়ে প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় প্রার্থী–মনোনয়ন, ভোট কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ, গণসংযোগ এবং প্রচারসামগ্রী বিতরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে, যা বিরোধী দলের সামগ্রিক ঐক্যের প্রশ্নকেও আলোচনায় আনছে। সংঘর্ষ বা উত্তেজনার ঘটনা দলীয় সমন্বয়, জোট প্রশ্ন ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে তা স্পষ্ট নয়; তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো মাঠ পর্যায়ে সমর্থক ধরে রাখতে এবং ভোটের বার্তা ছড়াতে সক্রিয় থাকায় ঝুঁকি ও টানাপোড়েন বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার বাইরে দীর্ঘ সময় অবস্থানকারী দলগুলোর মধ্যে সংগঠনিক শৃঙ্খলা, এলাকাভিত্তিক নেতৃত্ব এবং রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিং এখন নতুন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র; যেখানে জাতীয় জোট রাজনীতি ও মাঠের বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন সংকেত দেয়। এই ঘটনার পর এলাকায় জনমত ও নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়লেও প্রচারণা বা দলীয় কার্যক্রম থামেনি; বরং দুই পক্ষই নিজ নিজ সমর্থক ও ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছাতে তৎপর। স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানিয়েছে। নির্বাচনের আগে বা পরে রাজধানীর জনগণ বহুবার দলীয় অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ, হঠাৎ ধাওয়া বা বাধা–বিঘ্নের অভিজ্ঞতা পেয়েছে, যা নাগরিক নিরাপত্তা ও যাতায়াতের ওপরও প্রভাব ফেলে। মিরপুরের এই ঘটনাও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ, যেখানে বিরোধী দলগুলো নিজ নিজ ক্ষমতার বৃত্তে সংঘাত বা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মাঠের শক্তি যাচাই করছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিবেশের অস্থিরতা ও কৌতূহল আরও বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে।

repoter