ছবি: সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয় শিক্ষার্থী হত্যার আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা পিছিয়ে যাওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আদালত আজ জানায়, মামলার জটিলতা, সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন এবং আইনগত বিষয়সমূহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রায় ঘোষণার পূর্বনির্ধারিত দিন পরিবর্তন করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মামলার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘতর হলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে অপরিহার্য বলে বিবেচিত। বহু বছর আগে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড ঘটনাটি সে সময় জনমনে তীব্র ক্ষোভ এবং নিরাপত্তাহীনতার চিত্র ফুটিয়ে তুলেছিল, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। মামলার সূচনা থেকে তদন্ত, চার্জশিট, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্কসহ বিচারিক প্রক্রিয়া নানা ধাপে এগিয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো বারবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে এসেছে। রায় ঘোষণা পিছিয়ে যাওয়ায় কিছু পরিবারের সদস্য হতাশা প্রকাশ করলেও তারা আশা হারায়নি, কারণ তাদের বিশ্বাস বিচারিক প্রক্রিয়ায় সময় লাগলেও সঠিক রায় পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মামলাটিতে সাক্ষ্যপ্রমাণ, ফরেনসিক প্রতিবেদন, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবৃতি এবং ঘটনার সময়কার ভিডিও ও অডিও তথ্য আদালতে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আলোচনা করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডের পটভূমি, সংঘর্ষের ধরন, অস্ত্রের ব্যবহার, অভিযুক্তদের অবস্থান এবং হত্যার উদ্দেশ্য সংক্রান্ত তথ্য। এ ছাড়া আদালত তদন্তের মান, সাক্ষীদের নিরাপত্তা, মামলার আইনগত ব্যাখ্যা এবং সচেতনতার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচারিক অগ্রগতিও বিবেচনা করছে। আইনজীবীরা যুক্তিতর্কে বলেছেন, মামলাটির মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা কেবল ছয়জন শিক্ষার্থীর হত্যার বিচার করবে না, বরং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে নিরাপত্তা প্রশ্নে একটি নজিরও স্থাপন করবে। ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বিভিন্ন অসামঞ্জস্য, সাক্ষ্যের দুর্বলতা এবং তদন্তের ঘাটতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ দাবি করেছে, উপস্থাপিত প্রমাণ ও সাক্ষ্য হত্যাকাণ্ডের অপকর্ম এবং অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। রায়ের নতুন তারিখ সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট সব মহল এখন অপেক্ষারত, কারণ তারা মনে করে রায়ের ওপর নির্ভর করবে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ভবিষ্যৎ বার্তা কী হবে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজ রায়ের অপেক্ষায় বলেছে, ন্যায়বিচারের নিশ্চিতকরণই হবে মামলার কেন্দ্রবিন্দু এবং দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মামলার রায় বিলম্বিত হওয়া নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, সঠিক বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সময় নেওয়া স্বাভাবিক এবং তা বিচারব্যবস্থার উপর জনমানসের আস্থা বৃদ্ধি করে। প্রবীণ আইনজীবীরা মন্তব্য করেছেন, যেসব মামলার সঙ্গে জননিরাপত্তা, যুব সমাজ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জড়িত থাকে সেগুলো শুধু বিচার নয়—নাগরিক প্রত্যাশা, পরিবারিক ব্যথা এবং সামাজিক শিক্ষার জায়গা থেকেও মূল্যায়িত হয়। এখন সকলের দৃষ্টি আদালতের দিকে এবং নতুন তারিখে ঘোষিত রায় মামলাটিকে কোন পথে নিয়ে যায় সেটাই দেখার বিষয়।
repoter

