ঢাকা,  শনিবার
২৪ জানুয়ারী ২০২৬ , ০৬:০১ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে ভোটারদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করলেন আমিনুল হক * আন্তর্জাতিক বাজারে উত্থানের প্রভাবে দেশে ফের স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি * ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের নামে দলীয় স্বার্থে ধোঁকার অভিযোগ * আমরা দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না: জামায়াত আমির * দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন উৎসর্গের অঙ্গীকারে নির্বাচনমুখী প্রচারণা জোরদার * সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানে তীব্র বিতর্ক * সারাদেশে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করলো বিএনপি * সিলেটে বিএনপির জনসভায় জনস্রোত, নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা * মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, হাতে–হাতিতে আহত অন্তত ১৫ * চার দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তারেক রহমানের কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও রাজনৈতিক বার্তা

সারাদেশে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করলো বিএনপি

repoter

প্রকাশিত: ১০:৫৪:২০পূর্বাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১০:৫৪:২০পূর্বাহ্ন, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

ছবি: সংগৃহীত ছবি

বিএনপি সারাদেশের সাংগঠনিক কাঠামোর ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান দ্বিধা-বিভক্তি, বিদ্রোহী কর্মকাণ্ড ও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের বিষয়গুলো বড় ধরনের টানাপোড়েনের জন্ম দেওয়ায় অবশেষে কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ পুনর্গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে একযোগে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলার মোট ৬৯ জন নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। দল জানায়, এদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল সাংগঠনিক পদ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা পর্যায়ের পদাধিকারী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, উপজেলা-থানা পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং কেন্দ্রীয় বিভিন্ন উপদেষ্টা ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আলোচকদের মতে, দল সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিজস্ব গ্রুপিং, প্রার্থীতা, প্রচারণা বা মাঠ পর্যায়ের ক্ষমতার দৌড়ে লিপ্ত হওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছিল এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে বিরোধী রাজনীতির নির্বাচনী প্রস্তুতি, মাঠ পর্যায়ে সংগঠনিক সম্প্রসারণ, নতুন কৌশল গ্রহণ ও জোটগত সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের সময় এই বিদ্রোহী চরিত্র দলে চাপ তৈরি করেছিল। ফলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব মনে করছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সংগঠনকে ঢেলে সাজানোই সময়ের দাবি। বিভিন্ন বিভাগ—রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম—জুড়ে এই তালিকা বিস্তৃত, যা প্রমাণ করে যে ঘটনা সীমাবদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে নয়; বরং এটি দলজুড়ে বিস্তৃত একটি সমস্যা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, একটি বিরোধী দলের জন্য নির্বাচন-পূর্ব সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে, মাঠে জনসভা, প্রচারণা, সমাবেশ এবং জোটগত সমীকরণ সক্রিয় হচ্ছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য নতুন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে বিএনপির এমন পদক্ষেপকে কেউ সাংগঠনিক দৃঢ়তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি দলীয় মতবিরোধকে আরও প্রকট করতে পারে। তবে দলীয় নেতারা বলছেন, শৃঙ্খলা ছাড়া রাজনৈতিক সংগঠন টিকে থাকতে পারে না, আর বিদ্রোহী গ্রুপিং বা নির্দেশ অমান্যকারিতা ছেড়ে দিলে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে অচলাবস্থা তৈরি হবে। এর আগে অনেকবার দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা দেওয়া হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মাঠপর্যায়ে প্রার্থীতা, মূল্যায়ন, কমিটি পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় বার্তা এবং জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের নির্দেশ পালনের প্রশ্নে দ্বন্ধ তীব্র হয়েছে, যা বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে একধরনের ‘সংগঠনগত সার্জারি’র অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বহিষ্কৃতদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন এবং নিজস্ব গোষ্ঠীভিত্তিক রাজনৈতিক প্রচারণা চালাতেন, যা দলীয় বার্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এমন সিদ্ধান্ত শুদ্ধি অভিযানের মতো কাজ করতে পারে, আবার এর একটি ঝুঁকি হলো—বহিষ্কৃতদের কেউ কেউ বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে পারেন, নতুন কৌশল নিতে পারেন অথবা নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র বা অনানুষ্ঠানিক জোট তৈরি করতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির ভেতরে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নতুন নেতৃত্বের বিকাশ এবং নির্বাচনী কৌশল ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে ওঠতে পারে। অন্যদিকে সমর্থক পর্যায়ে এই বহিষ্কার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—কেউ এটি জরুরি মনে করছেন, আবার কেউ মনে করছেন বিরোধী রাজনীতিতে ঐক্যই এখন সবচেয়ে জরুরি। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরে আরও কিছু দলের কার্যক্রম, জোটগঠন, মাঠে শক্তি প্রদর্শন, নির্বাচনী থিম সং প্রকাশ ও সমাবেশগুলো সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করেছে। ফলে বিএনপির এই বহিষ্কার প্রসঙ্গ শুধু দলীয় ঘটনা নয়—বরং জাতীয় নির্বাচনী বৃত্তে একটি নতুন রাজনৈতিক মেসেজও পৌঁছে দিয়েছে যে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

repoter