ঢাকা,  শনিবার
২৪ জানুয়ারী ২০২৬ , ০৫:৫৯ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে ভোটারদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করলেন আমিনুল হক * আন্তর্জাতিক বাজারে উত্থানের প্রভাবে দেশে ফের স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি * ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের নামে দলীয় স্বার্থে ধোঁকার অভিযোগ * আমরা দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না: জামায়াত আমির * দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন উৎসর্গের অঙ্গীকারে নির্বাচনমুখী প্রচারণা জোরদার * সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানে তীব্র বিতর্ক * সারাদেশে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করলো বিএনপি * সিলেটে বিএনপির জনসভায় জনস্রোত, নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা * মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, হাতে–হাতিতে আহত অন্তত ১৫ * চার দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তারেক রহমানের কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও রাজনৈতিক বার্তা

ইসলামী আন্দোলন না এলে আসন বাড়বে অন্যদের

repoter

প্রকাশিত: ১১:৪৮:০৮পূর্বাহ্ন, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১১:৪৮:০৮পূর্বাহ্ন, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনি সমঝোতা এবং আসন বণ্টন নিয়ে তীব্র আলোচনার মধ্যদিয়ে এগোচ্ছে দেশ। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলের জোট দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিল। তবে জোটের সঙ্গে শুরু থেকে যুক্ত থাকা ইসলামী আন্দোলন শুক্রবার ২৬৮টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা পথ বেছে নিয়েছে। এতে জোটের নেতারা স্বীকার করেছেন যে, তাদের জন্য রাখা ৪৭টি আসন ফাঁকা থাকবে, এবং শেষ সময় পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হবে। জোটের শীর্ষ নেতাদের মতে, যদি ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নেয়, তবে সেই ফাঁকা আসনগুলো অন্যান্য জোট শরিকদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে, যা নির্বাচনের নকশায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ঘোষিত সমঝোতার ভিত্তিতে, জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৭৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও নেজামে ইসলাম পার্টি দুটি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি কোনো প্রার্থী না দিলেও তারা নির্বাচনি ঐক্যে অংশগ্রহণ করছে। জোট সূত্র জানিয়েছে, দলগুলো ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের ভোটের আগে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন এবং গণভোট আলাদা দিনে আয়োজনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে নেমেছিল। তবে আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দেয়। জামায়াত ৪০টি আসন ছাড় দিতে চেয়েছিল, কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ৭০টি আসন দাবি করেছিল। এ নিয়ে কয়েক দিনের দর-কষাকষির পর জোটের ১০টি দল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে ২৫৩টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছিল, যেখানে ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়, যাতে ইসলামী আন্দোলনের জন্য জায়গা রাখা হয়। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান এই ফাঁকা আসনের প্রস্তাবের মাধ্যমে আশা প্রকাশ করেছিলেন যে ইসলামী আন্দোলন সম্ভব হলে জোটের সঙ্গে মিলিত হবে। পরের দিনই ইসলামী আন্দোলন নিজস্বভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান জানান, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা ২৬৮টি আসনে কাজ করছেন এবং একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। এছাড়া ৩২টি আসনে তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী ও জনগণের জন্য দায়বদ্ধ প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামী আন্দোলনের অংশগ্রহণ বা অনুপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, এবং জোটের মধ্যে আসন বণ্টনের সমন্বয় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সমমনা দলগুলোর অবস্থানকে শক্তিশালী বা দুর্বল করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে, জোটের অন্যান্য দলগুলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে এবং লিয়াজোঁ কমিটি ফাঁকা আসনে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করবে, যা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভোটপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

repoter