ছবি: ফাইল ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না তা নিয়ে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রবিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে কি না তা পুনর্বিবেচনা করার সময় এসেছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিক এবং ঋণ খেলাপি প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করার মাধ্যমে বিএনপির পক্ষে পক্ষপাত করছে, যা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এনসিপিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি এই নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো কনফিডেন্ট পাচ্ছে না এবং এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা হবে কি না তা যৌথভাবে পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, এনসিপি নির্বাচনের আগে সব বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে, তাদের ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মধ্যে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজন হলে রাজপথে আন্দোলনেও নামার প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। রবিবার কমিশনে প্রার্থীদের বৈধতা নিয়ে আপিল শুনানির সময় নির্বাচন কমিশনাররা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং ফলাফলের মধ্যে সংবিধানবিরোধী কিছু রায় এসেছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলটি ২৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তবে প্রতিটি আসনের প্রার্থীকে নিয়েও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এনসিপির দ্বিধা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সম্ভাবনা ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটকে জটিল করে তুলছে, কারণ দলটির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি ভোটের পরিধি, জোটের শক্তি এবং নিরপেক্ষতার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এনসিপি এই অবস্থায় দফায় দফায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, এবং দলের সকল স্তরের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, কোনো একক সিদ্ধান্ত নয়, দলীয় ঐক্যের ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে এনসিপি, যা আগামী নির্বাচনে ভোটের মাঠে তাদের অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে পারে।
repoter


