ছবি: শুক্রবার রাতে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে নির্বাচনী ঐক্যজোটের সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রংপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে জামায়াত ইসলামীসহ ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের নেতারা দেশ পরিচালনায় ঐক্য ও সাম্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশকে আর বিভক্ত ও সংঘাতের পথে ঠেলে দেওয়া যাবে না। জাতির উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বিরোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি দাবি করেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে জনগণ যদি তাদের সময় ও সুযোগ দেয়, তাহলে আগামী পাঁচ বছর দেশের প্রশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ঐক্যের ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করা হবে। বক্তা জানান, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি রোধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও পুরোনো রাজনৈতিক ধ্যানধারণা পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য তাদের। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দিয়েছে যে প্রজন্ম, তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্র সংস্কারের পথে এগোতে হবে এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান বা দুর্নীতির বিস্তার যেন আর সমাজে জায়গা না পায় সে বিষয়ে জনগণ আগ্রহী। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আচরণে যে বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার ব্যর্থতা বর্তমান ব্যবস্থায় বিদ্যমান। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিশোধ বা মিথ্যা মামলার সংস্কৃতি এ দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বক্তারা বলেন, নিজেদের বিরুদ্ধে বারবার মামলা ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তারা প্রতিশোধমূলক রাজনীতি চান না; বরং কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি বা মামলার ভয় দেখিয়ে কারাবন্দি করার প্রবণতার বিরোধিতা করেন। তারা জানান, এত দীর্ঘ সময়েও রাজনৈতিক সহনশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি এবং দুর্নীতিবিরোধী সুশাসন নিশ্চিত না হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম হতাশ। বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া এই প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব নয়। সমাবেশে জামায়াত নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ঐক্যজোটের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন। তারা দাবি করেন, নির্বাচনী পরিবেশ ইতিবাচক রাখতে হলে প্রশাসন ও বিরোধী দলের ওপর সমানভাবে দায়িত্ব বর্তায় এবং দেশবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন হতে হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে হবে। বক্তারা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষণের বিষয়েও মন্তব্য করেন এবং বলেন রাজনৈতিক মেরুকরণ কমিয়ে জনগণের ভোটাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নেতৃত্বের পক্ষে দাবি করা হয় যে, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই শেষ মুহূর্তে নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করতে পারেন। সমাবেশের শেষভাগে জামায়াত আমির ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং আগাম নির্বাচনে বিজয়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে আহ্বান জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিয়ে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা গড়তে হবে। নির্বাচনী প্রচারণা, প্রতিশ্রুতি ও রাজনীতির ভাষা কিছুটা তীব্র হলেও বক্তারা দাবি করেন, তাদের লক্ষ্য সংঘাত নয় বরং সংস্কার ও ঐক্য। তাদের বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি, সামাজিক ন্যায়বিচার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সহনশীলতা এবং যুবসমাজের স্বার্থের কথা বারবার উল্লেখ করা হয়। সমাবেশ শেষে বক্তারা আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, জনগণ পরিবর্তনকে সমর্থন করবে এবং দেশকে সমমর্যাদায় একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হবে।
repoter


