ছবি: সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় চার শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায় বলে জানা যায়, এতে শীতের রাতে বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাবার, পোশাক, নথিপত্রসহ প্রায় সব ধরনের সম্পদ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। আগুন লাগার মুহূর্ত থেকে আশপাশের ক্যাম্পগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, ডি-৪ ব্লকের একটি লার্নিং সেন্টার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা পাশের বসতঘর ও শেডে পৌঁছে যায়। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অভিযান পরিচালনা করেন এবং ইউনিটগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, রান্নার চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, তবে আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে এবং ক্যাম্পে আগুন প্রতিরোধ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, শেডের নকশা ও প্রবাহমান রাস্তা নিয়ে উদ্বেগ পুনরায় সামনে আসে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণে শিক্ষালয়, বসতঘর, ছোট দোকানপাট ও কমিউনিটি স্থাপনা বহু ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শিশু, নারী, বয়স্কসহ অনেকেই প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে না পেরে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়ে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি, বিদ্যুৎ লাইন ও রান্নার সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি, শেডের ঘনত্ব, পালানোর রাস্তা এবং সংকটকালীন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাম্পে জনঘনত্ব বেশি হওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ে এবং শুষ্ক মৌসুম বা রাতের সময় আগুন লাগলে তা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে যায়। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতায় অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় এসেছে, কারণ ক্যাম্পের নিরাপত্তা, মৌলিক মানবিক সুবিধা ও জীবনযাত্রার বিষয়গুলো স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনাকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, জরুরি খাদ্য ও পোশাক সরবরাহ, শীতবস্ত্র, নিরাপদ পানি ও চিকিৎসা সহায়তা এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আগুনে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাদের ভবিষ্যৎ জীবনযাত্রার নিরাপত্তা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে ক্যাম্পে বহু অগ্নিকাণ্ড ঘটার কারণে আগুনের উৎস, বিশৃঙ্খল কাঠামো, অগ্নি প্রতিরোধক ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, রান্না এবং গ্যাসবিহীন পরিবেশে ব্যবহৃত বিকল্প জ্বালানি পদ্ধতির যথাযথ নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে পরিবারিক সংকট, শিশুদের শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, শীতের সময় আশ্রয় সংকট ও মানসিক চাপে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ফলে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়মিত অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, পরিকল্পিত নির্মাণ, ঝুঁকি মূল্যায়ন, দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পথ, আগুন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ও প্রতিরোধক উপকরণ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
repoter