ছবি: মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম
দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক ও তাদের ভবিষ্যৎ অ্যালায়েন্স নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এক জনসভায় ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে দাবি করা হয় যে জাতীয় রাজনীতিতে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের মধ্যে একটি দল ইসলামের নামকে ব্যবহারিক আবরণ হিসেবে নিয়ে নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়ার কৌশল সাজিয়েছে এবং এতে বৃহত্তর ইসলামী রাজনীতির ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বক্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আগের বছরের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দুর্নীতি ও দমননীতির বিরুদ্ধে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জোট ও ঐক্য প্রচেষ্টার মধ্যে কিছু দল দীর্ঘমেয়াদি আদর্শগত অবস্থানের চেয়ে ক্ষমতা দখলের পথে নিজেদের কৌশলগত পজিশনিংকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বক্তার অভিমতে, ইসলামী মূল্যবোধের নামে এ ধরনের রাজনৈতিক চালচিত্র জনগণের বিশ্বাসে আঘাত হানে এবং জাতীয় রাজনীতিতে ইসলামের বার্তা ও ভূমিকার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করে। বক্তব্যে বলা হয় যে দেশে ক্ষমতার প্রশ্নে কিছু দলের সঙ্গে বাইরের পক্ষের যোগাযোগ ও আলোচনা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করছে এবং এটি প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক ইসলামের নামকে ব্যবহার করে একটি অংশ কৌশলগত সুবিধা আদায় করতে চায়, কিন্তু তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব পরিকল্পনা অনুপস্থিত। এতে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে ইসলামী ঐক্য ব্যাহত হচ্ছে এবং মাঠের কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বক্তার ভাষ্যে উঠে আসে যে আদর্শিক সহযাত্রার প্রশ্নে প্রতারণা বা দ্বিমুখী আচরণ করলে কোনো দলই সমাজে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না, কারণ জনগণ এখন আগের তুলনায় বেশি সচেতন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ধর্মীয় পরিচয় বা প্রতীক দেখলেই সমর্থন দেবে এমন সময় আর নেই। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আদর্শভিত্তিক পরিবর্তন, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় জোট ও নির্বাচনি সমীকরণকে কেন্দ্র করে ইসলামী পরিচয়কে কৌশলগত সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করলে এর ফল দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক হতে পারে। বক্তৃতায় আরও উল্লেখ করা হয় যে আন্দোলন ও জোটের মধ্যে নৈতিক প্রত্যাশা থাকে—বিশ্বাস, স্বচ্ছতা, অভিন্ন লক্ষ্য—কিন্তু যে দল গোপন আলোচনার মাধ্যমে অপরের স্বার্থ পরাস্ত করে ক্ষমতার পথে এগোতে চায় তাদের ওপর আদর্শগত আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক নির্বাচনি পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দাবি যে জনগণ নীতিগত ও মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির প্রতি এবার আগের চেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে এবং তারা চাইছে বিভাজনের বদলে ঐক্য ও সততার প্রতিফলন। বক্তৃব্যে আরও ধারণা দেওয়া হয় যে যেসব দল ক্ষমতা লাভের অঙ্কে বেশি ব্যস্ত তারা বড় পরিসরে ইসলামী আন্দোলনকে একীভূত করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, ফলে সামগ্রিক ইসলামী রাজনীতি তার সম্ভাব্য প্রভাব হারাচ্ছে। অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ প্রজন্মের কাছে ইসলামী রাজনীতির পরিচিতি বদলেছে; তারা ইসলামী পরিচয় চায়, কিন্তু রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, ন্যায় ও জবাবদিহির নিশ্চয়তাও চায়। এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনি মাঠে আলোচনার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী প্ল্যাটফর্মের বিভাজন ও ঐক্য প্রশ্নে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি হয়েছে, আর পর্যবেক্ষকদের মতে এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আগামী দিনে ইসলামী রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান কোথায় দাঁড়াবে।
repoter


