ঢাকা,  শনিবার
২৪ জানুয়ারী ২০২৬ , ০৬:০২ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* নির্বাচনী প্রচারণার তৃতীয় দিনে ভোটারদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে দেখা করলেন আমিনুল হক * আন্তর্জাতিক বাজারে উত্থানের প্রভাবে দেশে ফের স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি * ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের নামে দলীয় স্বার্থে ধোঁকার অভিযোগ * আমরা দেশ ও জাতিকে বিভক্ত করতে চাই না: জামায়াত আমির * দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন উৎসর্গের অঙ্গীকারে নির্বাচনমুখী প্রচারণা জোরদার * সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ইরানে তীব্র বিতর্ক * সারাদেশে বিদ্রোহীদের বহিষ্কার করলো বিএনপি * সিলেটে বিএনপির জনসভায় জনস্রোত, নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা * মিরপুরে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, হাতে–হাতিতে আহত অন্তত ১৫ * চার দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তারেক রহমানের কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও রাজনৈতিক বার্তা

গণতান্ত্রিক স্বার্থে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা জানালেন জামায়াত আমির

repoter

প্রকাশিত: ১১:৫৬:৩১পূর্বাহ্ন, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১১:৫৬:৩১পূর্বাহ্ন, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ডা. শফিকুর রহমান

ছবি: ডা. শফিকুর রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গণতান্ত্রিক অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শতভাগ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত পলিসি সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, গত প্রায় সাড়ে এক যুগজুড়ে দেশের জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ধাঁচে পরিচালিত হয়েছে দেশ—যা গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও নাগরিক অধিকারের জন্য ছিল গভীর হুমকি। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি জানান, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার লক্ষ্য এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের ক্ষেত্রে যেসব রাজনৈতিক দল আন্তরিকভাবে সাড়া দেবে, সেসব দলের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের ভিত্তিতে এগোতে আগ্রহী জামায়াত। তার মতে, উন্নত রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে শুধু দল নয়, বরং দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত হওয়া এবং জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সহায়ক ভূমিকা পালন করা জরুরি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত বছরগুলোতে গণতান্ত্রিক পথচলা ধারাবাহিক ব্যাহত হওয়ায় জনগণ রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়েছে এবং সেই সংকট কাটিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সামিটে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিবেশ, নীতি সংস্কার, অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আগামীর নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গঠনের বিষয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে উঠে আসে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করা, নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী মাঠকে সবার জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি। ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট দূর করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা পুনরুদ্ধারেও অবদান রাখবে। তিনি বলেন, নীতিগত সংস্কার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া জনগণের কল্যাণসংশ্লিষ্ট বড় কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং এজন্য ক্ষমতার প্রয়োগে উদারতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। এ ছাড়া তিনি উন্নয়ন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠাই হতে পারে ভবিষ্যৎ টেকসই অগ্রগতির মূল শর্ত। সামিটের আলোচনায় কিছু অংশগ্রহণকারী দেশের রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটারদের রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন। রাষ্ট্রদূতেরা আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, নির্বাচনী কূটনীতি এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতার রূপান্তরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন। আলোচনার সারাংশে বক্তারা প্রত্যাশা জানান, আসন্ন নির্বাচন ক্ষমতা পাল্টানোর প্রতিযোগিতা ছাড়াও জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করবে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির নতুন পথ উন্মুক্ত হতে পারে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় থাকলে ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে বলেও অংশগ্রহণকারীরা মত দেন। শেষে ডা. শফিক দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সবাইকে সহযোগিতা এবং ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

repoter