ছবি: ফাইল ছবি
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গায়ক ও অভিনেতা তাহসান খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর রোজা আহমেদের ব্যক্তিগত জীবনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। মাত্র চার মাসের পরিচয় থেকে তাদের সম্পর্কের দ্রুত অগ্রগতি, বিয়ের আয়োজন ও পরিবারভিত্তিক আনুষ্ঠানিকতা—সবকিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু বছরের শেষ ভাগে এসে তাঁদের সম্পর্কে টানাপোড়েনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এবং শোবিজ মহল ও ভক্তদের মনে নানা প্রশ্ন উঁকি দেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদের ঘোষণা না এলেও সম্প্রতি তাহসান জানান যে তিনি আর রোজার সঙ্গে থাকছেন না, যা অনেকে বিচ্ছেদের সংকেত হিসেবে বিবেচনা করেন। এ সময় পর্যন্ত রোজা নিজের ইনস্টাগ্রামে তাহসানের বেশ কিছু ছবি রেখেছিলেন এবং নামের সঙ্গে ‘খান’ পদবি যুক্ত রেখেছিলেন, ফলে অনেকে ভেবেছিলেন হয়তো সম্পর্কটি এখনও পুনর্মিলনের সম্ভাবনার মধ্যে আছে। কিন্তু শেষ দুই সপ্তাহে ধীরে ধীরে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন দেখা যায় রোজা তাহসানের ছবি মুছে ফেলেছেন এবং নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ‘খান’ পদবি সরিয়ে দিয়েছেন, যা তাদের আলাদা পথচলার ইঙ্গিত হিসেবে নতুন করে আলোচনায় আসে। রোজার পেশাগত পরিচয় হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্রাইডাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন, দেশে ও প্রবাসে বিয়ের অনুষ্ঠানে মেকআপ সেবা দিয়ে পরিচিতি গড়ে তুলেছেন এবং প্রায় এক দশকের পেশাগত যাত্রায় তার নিজস্ব দর্শক ও ক্লায়েন্ট বেইস তৈরি হয়েছে। এ কারণে ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে এবং ভক্তদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জন্ম দেয়। অন্যদিকে তাহসান দীর্ঘদিনের সংগীত ও অভিনয় ক্যারিয়ারের কারণে জনমনে পরিচিত মুখ এবং পূর্ববর্তী সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ধাপ সংবাদমাধ্যমসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে এসেছে। তাই নতুন বিয়ের দ্রুত পরিবর্তন অনেকেই পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ মনে করছেন দুই ভিন্ন পেশার চাপ, পারস্পরিক প্রত্যাশা এবং সামাজিক মনোযোগ বিষয়টিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। যদিও কেউই প্রকাশ্যে বিচ্ছেদ বা বিবাহবিচ্ছেদের আইনি প্রসঙ্গ নিয়ে মন্তব্য করেননি, তবুও ইনস্টাগ্রাম থেকে ছবি মুছে ফেলা এবং পদবি বাদ দেওয়ার মতো প্রতীকী পরিবর্তনকে অনেকেই দুইজনের আলাদা পথে হাঁটার স্পষ্ট বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত জীবন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বর্ণনা ও ব্যাখ্যার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অনেক সময় আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের আগেই ভিজ্যুয়াল সংকেত বা একাউন্ট পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পর্কের অবস্থান বোঝা যায়। ভক্তদের একটি অংশ এখনো প্রশ্ন তুলছে, তারা কি সামনের দিনে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবেন, অথবা বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া আইনগত পর্যায়ে যাবে কি না। তবে দুই পক্ষের প্রতি সম্মান রেখে অনেকে বলছেন, ব্যক্তিগত জীবনে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার তাঁদেরই এবং সম্পর্কের সমাপ্তি বা পরিবর্তনকে ঘিরে গোপনীয়তা রক্ষা করা স্বাভাবিক। সামাজিক প্ল্যাটফর্মে একদল নেটিজেন রোজার পেশাগত সাফল্যকে প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে তাহসানের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শিল্পীসত্তাকে স্মরণ করছেন; আবার কেউ কেউ দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত বা বদলে যাওয়া সম্পর্ককে আধুনিক সমাজের সময়চেতনার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। সময়ই দেখাবে এই পরিবর্তন কোথায় গিয়ে থামে, তবে আপাতত ভক্ত ও পর্যবেক্ষকরা ধরে নিচ্ছেন, রোজা ও তাহসান নিজ নিজ পথে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনকে এগিয়ে নিতে চাইছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন বিনয়ের মধ্যেই শেষের দিকে এগোচ্ছে।
repoter

