ছবি: বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন দুপুর ১২টার দিকে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন
বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে রাশিয়া, সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতদের পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নির্বাচনের পরবর্তী শাসন কাঠামো, বিরোধী দলের অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহকে ঘিরে বিভিন্ন পাঠ তৈরি হচ্ছে। গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূতেরা দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়, যেখানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, উপদেষ্টা, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও মিডিয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সাক্ষাতের সময়সূচি ও অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রদূতদের তালিকা থেকে অনুমান করা যায় যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিরোধী দলের সঙ্গে যোগাযোগের চ্যানেল বজায় রাখার কৌশল অব্যাহত রয়েছে, যা দুই পক্ষের জন্যই প্রাসঙ্গিক; একদিকে বিরোধী দল রাজনৈতিক বৈধতা, গ্রহণযোগ্যতা ও বার্তা বিনিময়ের সুযোগ পায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পক্ষসমূহ রাজনৈতিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ নীতি পারস্পরিকতা, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ সম্পর্কে ধারণা সংগ্রহ করে। রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের এ ধরনের সাক্ষাৎ সাধারণত কূটনৈতিক সৌজন্যের অংশ হলেও সময় ও প্রেক্ষাপট অনুসারে এগুলো রাজনৈতিক সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হয়, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় বা পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনার মধ্যে যখন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি মাঠে সক্রিয় থাকে। বিএনপির অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সফর, সফরসূচি, জনসভা ও গণসংযোগ কার্যক্রমের সঙ্গে এই সাক্ষাৎকে মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী দল মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সংযোগ—দুই প্রান্তেই সক্রিয় ভূমিকা নিতে চাচ্ছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রদূতদের অংশগ্রহণে উত্তর ইউরোপীয় তিন দেশের উপস্থিতি মানবাধিকার, গণতন্ত্র, নাগরিক স্বাধীনতা ও অভিবাসনসহ বহুমাত্রিক আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়, আর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক ও ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর আন্তর্জাতিক কৌতূহল ও উদ্বেগ দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন, মাঠ পর্যায়ের সভা–সমাবেশ ও নির্বাচনী আলোচনা এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে আছে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আলোচনায় সামাজিক সুরক্ষা, জনজীবন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে, যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও বিদেশের কূটনৈতিক চ্যানেল একই সময়ে সক্রিয় হলে তা রাজনৈতিক বার্তা, অন্তর্দৃষ্টি সংগ্রহ, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ আগ্রহ ও নীতি সংলাপে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন। একইসঙ্গে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রাজধানীর বাইরে জনসম্পৃক্ততা ও জনসভায় অংশ নিচ্ছেন, যা রাজনৈতিক মাঠে নতুন কৌশলগত পর্যায় নির্দেশ করছে—যার লক্ষ্য একদিকে সংগঠন পুনর্গঠন, অন্যদিকে সমর্থক শ্রেণির আস্থা ও উপস্থিতি বাড়ানো। এ ধরনের কূটনৈতিক সাক্ষাৎ দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোতে সচরাচর বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পর্কের একটি সূক্ষ্ম স্মারক হয়ে থাকে, এবং আগামীর নীতি বিনিময়, ব্যবসা–বাণিজ্য, মানবাধিকার সংলাপ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও ছাপ ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
repoter


