ছবি: সংগৃহীত ছবি
দেশের সার্বভৌমত্ব ও সম্মানের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না—এমন অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনী প্রচারণায় দিনব্যাপী কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। সকাল থেকে উত্তরের পীরগঞ্জ, রংপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে সফরকালে তিনি শহীদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোক ও সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে দেশের এক ইঞ্চি জমি ও তার মর্যাদা কারও কাছে বন্ধক রাখা হবে না এবং কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা হবে না। সাম্প্রতিক গণ-আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি কবর জিয়ারত করে বলেন, জীবন দিয়ে দেশের আমানত রক্ষার প্রতিশ্রুতি শহীদেরা রেখে গেছেন এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের ওপর ন্যস্ত। তার ভাষণে অভিযোগ ছিল যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন রাষ্ট্র, দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা ও বৈষম্যবিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি; আর এই প্রত্যাশাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, নিজেদের কোনো স্বার্থ বা ব্যক্তিগত স্বপ্ন নয়, বরং শহীদদের স্বপ্নই তাদের লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্য অর্জনে জনগণের সাথে থেকে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। সফরের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে তিনি বলেন, অতীতের জটিল রাজনৈতিক সংকটেও জনগণের পাশে ছিল দলটি এবং কোনো পরিস্থিতিতেই পালানোর রাজনীতি গ্রহণ করা হয়নি। ভবিষ্যতেও পালানোর প্রশ্ন আসে না, বরং নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে বিবেচনা করা ভোটারদের কাছে দলীয় প্রার্থীদের পরিচিতি তুলে ধরা হবে। দিনের কর্মসূচিতে উল্লেখ ছিল বিভিন্ন জনসভায় বক্তব্য প্রদান, শহীদ পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ, বিভিন্ন জেলার রাজনৈতিক সমর্থকদের সংগঠিত করা এবং নির্বাচনী ইশতেহারের মূল প্রতিশ্রুতি ব্যাখ্যা করা। তিনি নির্বাচনকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা নয় বরং দেশের ভবিষ্যত রূপরেখা নির্ধারণের মাধ্যম হিসেবে দেখার আহ্বান জানান এবং বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের নির্দেশনা মেনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতার পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দলের নেতৃত্ব যুদ্ধাপরাধ, দুর্নীতি, বৈষম্য, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে যে বিতর্ক চলমান, তা অস্বীকার করে উল্লেখ করেন যে জনসমর্থনই তাদের মূল শক্তি এবং নির্বাচনী ফলাফল জনগণের রায়ের ওপর নির্ভর করবে। সফরের শেষাংশে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন, সাম্য, সুবিচার ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় দলটি ঐক্যবদ্ধ এবং নির্বাচনকে একটি পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চায়। দীর্ঘ সফর শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন এবং দলীয় জোটভুক্ত প্রার্থীদের পক্ষে বক্তব্য ও কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর উত্তরাঞ্চলে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এবং শহীদ ইস্যু রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে কার্যত ভোটের দিনেই নির্ধারিত হবে নির্বাচনী মাঠের বাস্তবতা ও ক্ষমতার সমীকরণ। (≈725 words)
repoter


