ছবি: বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে আন্দোলনের জন্য আলোচিত মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন
জুরাইনের নাগরিক সমস্যার প্রতিবাদ ও ব্যতিক্রমী আন্দোলনের জন্য আলোচিত মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তিন মেয়ের জনক মিজানুরের ছোট মেয়ে ৬ বছর বয়সী মৃণ্ময়ী হৃদ্যতা ২০১৮ সাল থেকে ছয় বার ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে, যার চিকিৎসা খরচ মেটাতে ঋণের বোঝা বাড়ে পরিবারে। পানি, ডেঙ্গু, ধুলো দূষণ, গ্যাস–সংকটসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি বহুবার আলোচিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে ওয়াসার নিম্নমানের পানি নিয়ে প্রতিবাদ করতে কাচের জগে পানি, লেবু, চিনি আর ছুরি নিয়ে ওয়াসা ভবনে হাজির হয়ে এমডিকে শরবত খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন, যা তাকে ‘ওয়াসা মিজান’ নামে পরিচিত করে। একই বছরের একটি গবেষণায় জানানো হয়, রাজধানীর ৯৩ শতাংশ গ্রাহক নিজ উদ্যোগে পানি পরিশোধন করে পান করেন, অথচ ওয়াসার শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেন পানি শতভাগ নিরাপদ; তার প্রতিবাদেই মিজানুর শরবত নিয়ে যান। পরিবেশ আন্দোলন, ডেঙ্গু সচেতনতা, চা শ্রমিকদের পক্ষে অবস্থান, ধুলা দূষণবিরোধী মানববন্ধনসহ নানা উপলক্ষে তিনি দেশ–বিদেশের গণমাধ্যমের নজরে আসেন। ২০১৭ সালে সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন এবং সেই ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে আলোচনা তৈরি হয়; একই বছরে সুইডিশ পত্রিকা তাকে ‘জলবায়ু যোদ্ধা’ হিসেবে বিশ্বসেরা পাঁচ পরিবেশ আন্দোলনকারীর একজন হিসেবে আখ্যা দেয়। এবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে তিনি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা তাকে নাগরিক সমস্যায় প্রশ্ন করলে ‘আপনি কি কাউন্সিলর না এমপি’—এমন তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করতেন, তাই সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে সমস্যাগুলো জানাতে ও সমাধানের জন্য প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মনোনয়ন বাতিল হলেও তিনি আপিলে দাঁড়িয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান। নির্বাচনী এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের আধিক্য, পরিবেশ দূষণ, মাদক, মাঠের অভাব, সেবা সংকট ও নারীদের সীমাহীন সমস্যা তার নজরে। নির্বাচনী খরচ প্রায় পুরোপুরি জনগণের চাঁদায় চলছে; মনোনয়নের জামানত ৫০ হাজারসহ আনুষঙ্গিক ১০ হাজার টাকার খরচও ‘ক্রাউডফান্ডিং’ থেকে আসে। তিনি জানান, গত কাউন্সিলর নির্বাচনে চাঁদায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ওঠে, বিনা খরচে দুই ঘণ্টায় হাজার ভোট পান, তবে অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন বর্জন করেন। অর্থ ও রাজনৈতিক পরিচয় না থাকা সাধারণ মানুষের জন্য নির্বাচনে দাঁড়ানো কঠিন বলে স্বীকার করলেও তিনি বলেন, ‘সাধারণ ঘরের ছেলে এমপি হতে চাই — এটাকে অনেকে বেয়াদবি মনে করছে।’ তার মা ও স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে সমর্থন দিচ্ছেন; মা বলেন, নির্বাচনের পর রাস্তাঘাট ঠিক করতে হবে। দোকানের আয়ে সংসার চলে, স্ত্রী পৈতৃক বাড়ির ভাড়াও সাহায্য করে। ৫১ বছর বয়সী মিজানুর জানান, ৩০ বছরের বেশি সময় রাস্তায় আন্দোলন করে কাটিয়েছেন, বড় অর্জন কম হলেও ছোট ছোট সাফল্য আছে; ধুলা দূষণে মানববন্ধনের পর কর্তৃপক্ষ পানি ছিটাতে শুরু করে। নির্বাচিত হলে ‘সিস্টেম পরিবর্তন’ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চান; না জিতলেও মানুষের পাশে থাকার ঘোষণা দেন।
repoter


