ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪০ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

সব সরকারি ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

reporter

প্রকাশিত: ১১:১৯:৩৬অপরাহ্ন , ২৭ জুন ২০২৫

আপডেট: ১১:১৯:৩৬অপরাহ্ন , ২৭ জুন ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

‘রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ দ্রুত বাস্তবায়নে জোর, বেসরকারি খাতে অংশগ্রহণের আহ্বান

দেশের সব সরকারি ভবনের ছাদে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “সরকারি ভবনের ছাদগুলো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ খাতে দেশের নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহারও বাড়বে। এ লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও সরকারি হাসপাতালসহ সব সরকারি দপ্তরের ছাদে রুফটপ সোলার সিস্টেম বসানোর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারি ভবনে সোলার প্যানেল বসানোর কাজটি যদি বেসরকারি খাতে করা যায়, তাহলে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে রক্ষণাবেক্ষণসহ কার্যকর ব্যবস্থাপনায় আগ্রহী হবেন। সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র ছাদ বরাদ্দ দিলেই তারা বাকি কাজ করতে পারবে।”

সভায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (IRENA)-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখনো সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। বর্তমানে ভারতে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ১৭.১৬ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৩৯.৭ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ হয়। অথচ বাংলাদেশে মাত্র ৫.৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সৌরশক্তি থেকে আসে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৫টি স্থলভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা বাস্তবায়নে ২০২৮ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের পাশাপাশি দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য ‘রুফটপ সোলার কর্মসূচি’ গ্রহণ করে জাতীয় বিদ্যুৎ খাতে বাস্তব পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে রুফটপ সোলার স্থাপন করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে কী ধরনের সমস্যায় পড়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।”

বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রুফটপ সোলার কর্মসূচি একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে। তবে এর বাস্তবায়নে নীতিগত সহায়তা, অর্থায়নের সহজ প্রক্রিয়া এবং কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎস গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এটি দেশের সার্বিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

reporter