ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৪ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

রোববারও চলবে এনবিআরে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, চেয়ারম্যান অপসারণে অটল আন্দোলনকারীরা

reporter

প্রকাশিত: ০৯:৪৩:৩৩অপরাহ্ন , ২৮ জুন ২০২৫

আপডেট: ০৯:৪৩:৩৩অপরাহ্ন , ২৮ জুন ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

চেয়ারম্যানের অপসারণ ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন জোরদার, স্থবির কাস্টমস কার্যক্রম

ঢাকা, ২৮ জুন — জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সংস্কার ও চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি রোববারও চলবে। শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ এই ঘোষণা দেয়। যদিও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা এই কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে বলে পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে রাজস্ব খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়। তার অভিযোগ, বর্তমান চেয়ারম্যান একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষ নিয়ে কাজ করছেন এবং সরকারের ঘোষিত রাজস্ব সংস্কারের উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “এনবিআর চেয়ারম্যান কার্যত ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং সুষ্ঠু সংস্কারের পথ রুদ্ধ করছেন।”

তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীরা সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী, তবে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে। তার ভাষায়, “চেয়ারম্যান আলোচনার পরিবেশ না তৈরি করে উল্টো বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন ও মিথ্যাচার করছেন। এজন্য তিনি পদে থাকলে কোনো গঠনমূলক আলোচনা সম্ভব নয়।”

আন্দোলনের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল থেকেই আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনের সামনে অবস্থান নেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আন্দোলনকারীরা এনবিআর ভবনের সামনের সড়ক ও ফুটপাতে অবস্থান নেন। এ সময় কেউ ভবনে প্রবেশ বা বাহির হতে পারেননি। এ কর্মসূচির ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনে কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। এতে আমদানি-রফতানিতে শুল্কায়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

চট্টগ্রাম বন্দর, বেনাপোল, ঢাকা কাস্টমস হাউসসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন, যদিও আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা যথারীতি চালু রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২১ ও ২২ জুন এনবিআর কর্তৃপক্ষ একাধিক আদেশে আন্দোলনে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের বদলি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, যেসব কর্মকর্তা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, তাদেরকে ঢাকার বাইরে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের দপ্তরে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। এসব আদেশে প্রাপ্য যোগদানকাল নির্ধারণ না করেই পরবর্তী কর্মদিবসে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা চাকরি বিধির পরিপন্থী বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।

সংগঠনের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তার বক্তব্যে এসব বদলিকে প্রতিহিংসামূলক এবং দুরভিসন্ধিমূলক বলে আখ্যা দেন। তার অভিযোগ, এনবিআর চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এই বদলির আদেশ দিয়েছেন এবং তা একটি সুষ্ঠু প্রশাসনিক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন, “চেয়ারম্যানের এসব সিদ্ধান্ত রাজস্ব ব্যবস্থাকে স্থবির করে তুলছে। তিনি চক্রান্তমূলকভাবে আন্দোলন দমন করতে চাইছেন, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।”

এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে এবং প্রয়োজনে আন্দোলনের পরিসর আরও বিস্তৃত করা হবে।

এদিকে চলমান আন্দোলনের ফলে রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ী মহল এবং আমদানি-রফতানি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা শিগগিরই সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছেন।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, দ্রুত আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা আবার সচল হয়। তাদের মতে, অংশগ্রহণমূলক ও স্বচ্ছ সংস্কারের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।

আন্দোলনকারীরা এনবিআরের কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, পক্ষপাতিত্ব এবং স্বচ্ছতার অভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, এখনই উপযুক্ত সময় এ সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার। তাদের দৃঢ় অবস্থান, কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য নেতৃত্বে পরিবর্তন অপরিহার্য।

reporter