ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪২ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

রেমিট্যান্স প্রবাহে চমকপ্রদ অগ্রগতি: জুন মাসে ২.৫৪ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা

reporter

প্রকাশিত: ০৯:৪৬:৩৭অপরাহ্ন , ২৯ জুন ২০২৫

আপডেট: ০৯:৪৬:৩৭অপরাহ্ন , ২৯ জুন ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

বার্ষিক ভিত্তিতে ২৬.৫ শতাংশ ও মাসিক ভিত্তিতে ৭.১ শতাংশ রেমিট্যান্স বৃদ্ধির তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

চলতি অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। মাত্র ২৮ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২.৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.১ শতাংশ বেশি।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া বর্তমান অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এখন পর্যন্ত প্রবাসীদের প্রেরিত মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২৩.৭৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ২৬.৫ শতাংশ বেশি। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির একটি রেকর্ড।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা মনে করছেন, হুন্ডি বা অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ নিরুৎসাহিত করতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া নানা পদক্ষেপ এবং বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার কারণেও বৈধ রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স আরও উৎসাহিত করতে ব্যাংকিং চ্যানেলগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভরতা বৃদ্ধি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) সঙ্গে রেমিট্যান্স সংযুক্তিকরণ এবং পাঠানো অর্থের উপর নগদ প্রণোদনার হার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে রেমিট্যান্স অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। রপ্তানি আয় কিছুটা ধীরগতির হলেও রেমিট্যান্স প্রবাহে এ প্রবৃদ্ধি দেশের আমদানি ব্যয় মোকাবিলায় সহায়ক হবে এবং মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের প্রবাসীরা যেভাবে দেশে আয় পাঠিয়ে যাচ্ছেন, তা দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও প্রবাসীদের দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ রেমিট্যান্স প্রেরণে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে প্রবাসীরা আরও সহজে এবং নিরাপদে অর্থ পাঠাতে পারেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চলমান অর্থবছরের বাকি সময়েও যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে বছরের শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩৩ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

এই রেমিট্যান্স প্রবাহ কেবল পরিবারিক ভরণ-পোষণের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, রিজার্ভ গঠন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকেও রেমিট্যান্স নির্ভর উন্নয়ন কর্মসূচিতে গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা।

প্রবাসীদের এই আর্থিক অবদানের জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং আগামীতে প্রবাসীদের কল্যাণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার জানিয়েছে।

reporter