ছবি: বাংলার বার্তার নিজস্ব ক্যামেরায় ধারণকৃত
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের হাতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় রোজা ঘনিয়ে আসায় বিশেষ কোনো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, বিদ্যমান মজুদ পরিস্থিতি মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে এবং বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা নেই।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ সরকারি কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা, বিশেষত রমজান মাসে যখন চাহিদা বেড়ে যায়। সরকার বাজার তদারকি জোরদার করছে এবং প্রয়োজনীয় সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে।
তিনি বলেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রমজানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা যাতে অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা না করেন, সে বিষয়ে সতর্কবার্তাও দেন তিনি।
সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা ও ইশতেহারে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রসার এবং একটি আধুনিক এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।
মন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বড় আকারের ডিজিটাল প্রকল্প গ্রহণ করছে এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। বাংলাদেশ যদি এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চলে, তবে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই প্রযুক্তি-নির্ভর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সিলেটের আইটি পার্কে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। বিনিয়োগ আকর্ষণে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন, যাতে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারেন।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য কেবল তাৎক্ষণিক বাজার নিয়ন্ত্রণ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা গড়ে তোলা।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সীমিত সম্পদ ও বাড়তি জনপ্রত্যাশার মধ্যেও সরকার পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। রমজানকে সামনে রেখে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
reporter

