ছবি: ফাইল ছবি
রোজা সামনে রেখে খেজুরের আমদানি ১১ শতাংশ বাড়লেও বাজারে কয়েকটি জনপ্রিয় জাতের খেজুরের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে খেজুর আমদানি হয়েছে ৪৯ হাজার ৮০৭ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার টন বেশি। তবু খুচরা বাজারে জাহিদি, দাব্বাস, নাকাল, মাশরুখ ও আম্বর—এই পাঁচ ধরনের খেজুরের দাম কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে জাহিদি খেজুর, যা তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের কাছে জনপ্রিয়। রোজা শুরুর আগেই জাহিদি খেজুরের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে। চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে কার্টনজাত জাহিদি খেজুর বিক্রি হয়েছে কেজি ২৮০ টাকায়, আর খুচরায় ৩৫০ টাকা। গত বছর একই সময়ে খুচরা দাম ছিল প্রায় ২০০ টাকা। বস্তা হিসেবে বিক্রি হওয়া জাহিদির খুচরা দাম এখন ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, যা গত বছর ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।
বাজার বিশ্লেষণে জানা গেছে, সম্প্রতি থাইল্যান্ড থেকে আসা একটি জাহাজে থাকা প্রায় ৪ হাজার টন খেজুর সাগরে ডুবে যাওয়ায় বড় চালান বাজারে পৌঁছায়নি। এর প্রায় ৯০ শতাংশই ছিল জাহিদি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা নিয়ে কর্মবিরতির কারণে কয়েক দিন পণ্য খালাস বন্ধ ছিল, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরবরাহে সাময়িক ঘাটতির কারণেই দাম বেড়েছে। বন্দর কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক এবং নতুন চালান আসছে। তাঁর মতে, এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কমতে পারে।
সরকার রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে গত ২৪ ডিসেম্বর খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, রোজায় মোট চাহিদা প্রায় ৬০ হাজার টন। বর্তমান আমদানির গতি বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিগগিরই সরবরাহ চাহিদা ছাড়িয়ে যাবে।
বাজারে নাকাল বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা (গত বছর ২৮০), মাশরুখ ৪৫০ টাকা (গত বছর ৪০০), আম্বর ৮০০ টাকা (গত বছর ৬০০) এবং দাব্বাস ৫০০ টাকা (গত বছর ৪০০)। তবে আজোয়া, মেডজুল ও মরিয়মের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
সরকারি সংস্থা Trading Corporation of Bangladesh (টিসিবি) ১৬০ টাকা কেজি দরে খেজুর বিক্রি শুরু করেছে, যেখানে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ আধা কেজি কিনতে পারছেন।
চাহিদা ও সরবরাহের সামান্য ভারসাম্যহীনতাই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ বলে মনে করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়–এর মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক সজীব কুমার ঘোষ। তাঁর মতে, রোজা এলে খেজুরের চাহিদা দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায়। ফলে সরবরাহে সামান্য ঘাটতিও বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
reporter

