ঢাকা,  শনিবার
২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৯:১৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* অমর একুশে আজ ভাষার চেতনায় জাগ্রত বাঙালির আত্মপরিচয় * যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা চরমে: হামলার প্রস্তুতি, নির্দেশের অপেক্ষায় ট্রাম্প * তানজিন তিশার চোখে অনুপ্রেরণার নাম জাইমা রহমান * একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ভাষা শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, মোনাজাতে অংশগ্রহণ * ঋণঝুঁকির সতর্কবার্তা: অতিমূল্যায়িত প্রকল্প ও দুর্বল শাসনে চাপে অর্থনীতি * নামিবিয়াকে উড়িয়ে সুপার এইটে পাকিস্তান, ফারহানের সেঞ্চুরিতে ঘুরে দাঁড়ানো * আইনের শাসনই হবে শেষ কথা: জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ * গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত: ভিন্নমতকে স্বাগত জানানোর আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতার * রোজায় বাজার নিয়ন্ত্রণই নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা * সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, আজই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক

আইনের শাসনই হবে শেষ কথা: জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ

reporter

প্রকাশিত: ১০:৩৯:১৬পূর্বাহ্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১০:৩৯:১৬পূর্বাহ্ন, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতির উদ্দেশে গতকাল ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: জাতির উদ্দেশে গতকাল ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে দেওয়া তাঁর প্রথম ভাষণে ঘোষণা করেছেন—রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় প্রভাব, জোরজবরদস্তি বা ব্যক্তিগত প্রতিপত্তি নয়; আইনের শাসনই হবে চূড়ান্ত ও একমাত্র নির্দেশক। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বিধিবদ্ধ নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং কোনো অবস্থাতেই আইনবহির্ভূত প্রভাব সহ্য করা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া এ ভাষণে তিনি দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, বাজারব্যবস্থা, যোগাযোগ খাত, জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। ভাষণটি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।

তিনি বলেন, নবগঠিত সরকারকে যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সবার অধিকার সমান। সরকার কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর নয়; রাষ্ট্র সবার। ধর্ম, বর্ণ, মত বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের ফলে অর্থনীতি দুর্বল, প্রশাসনিক কাঠামো ভঙ্গুর এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতিশীল অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণই হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে তিনি সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ দুটি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব—এ কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

রমজান মাসকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণেও ব্যবসায়ীদের প্রতি সতর্ক বার্তা দেন তিনি। বলেন, সরকার ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে পদক্ষেপ নিতে চায়। বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও অভিযোগ গ্রহণে সরকার প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রমজান মাসে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে ইফতার, তারাবি ও সাহরির সময় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির কথা বলেন তিনি।

রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে যানজট সমস্যাকে তিনি জনদুর্ভোগের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঢাকায় জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সারা দেশে রেল যোগাযোগব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। মানুষের নিজ নিজ জেলায় অবস্থান করেও সহজে অফিস-আদালত ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি নজির স্থাপনের কথা বলেন। তিনি জানান, তাঁর দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি বা প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না। মন্ত্রী ও এমপিদের মাধ্যমে নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেই জনগণের কাছে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানানো হবে।

তিনি বলেন, ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করেই সরকার পরিচালিত হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছেই জবাবদিহি করবে—এই নীতিতে অটল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

reporter