ছবি: ফাইল ছবি
সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে মোট ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠিত হচ্ছে। এই সরকারের নেতৃত্বে থাকছেন তারেক রহমান, যিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী—উভয় পর্যায়েই রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি একাধিক টেকনোক্র্যাটকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই শপথ অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।
পূর্ণমন্ত্রী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখেরা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন টেকনোক্র্যাট ড. খলিলুর রহমান। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাত একত্রে পরিচালনা করবেন টেকনোক্র্যাট মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একসঙ্গে পেয়েছেন আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
অবকাঠামো খাতে বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শেখ রবিউল আলমকে, যিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন—এই তিনটি মন্ত্রণালয় দেখবেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন মো. আসাদুজ্জামান। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পেয়েছেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
প্রতিমন্ত্রী পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন টেকনোক্র্যাট মো. আমিনুল হক। শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নুরুল হক নুর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. আব্দুল বারীকে।
এই মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে নতুন সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক সেবা খাতে গতি আনার বার্তা দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষ করে একাধিক মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্র্যাট অন্তর্ভুক্তির ফলে নীতিনির্ধারণে পেশাগত দক্ষতার প্রতিফলন ঘটবে—এমন প্রত্যাশাও দেখা যাচ্ছে।
reporter



