ছবি: ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন আশার বার্তা দিয়েছেন।
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গণতন্ত্রের অবক্ষয় এবং সংসদকে অকার্যকর করে রাখার পর জনগণের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ পুনর্গঠিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই অর্জন শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি বড় মাইলফলক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে দলের তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আরও এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্ব জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকেই নৈতিকতা ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—বিএনপির সংসদ সদস্যরা ডিউটি ফ্রি গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্লটও নেবেন না। দলীয় নেতৃত্বের মতে, এই সিদ্ধান্ত রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি স্পষ্ট বার্তা।
এর আগে সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়, যা আগামী দিনে সরকার গঠন ও নীতিনির্ধারণের পথ সুগম করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শপথ অনুষ্ঠান এবং সংসদ নেতা নির্বাচন নতুন সরকারের কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলগুলোর অবস্থান, গণভোট সংক্রান্ত আইনি চ্যালেঞ্জ এবং সংস্কারমূলক আলোচনাগুলো নতুন সংসদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং প্রশাসনিক সংস্কার—এসব বিষয় নতুন নেতৃত্বের জন্য পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, সংসদ নেতা হিসেবে তারেক রহমানের নির্বাচন এবং বিএনপির ঘোষিত নীতিগত অবস্থান দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন দিকনির্দেশনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই নেতৃত্ব কীভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
reporter



