ছবি: বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একটি কার্যকর ও সুস্থ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির বিকাশে ভিন্নমতকে দমন না করে বরং তা গ্রহণ ও সম্মান করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড Facebook অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে দেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে দেশে এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা বিরাজ করেছে, যেখানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় পক্ষই কখনো না কখনো দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে।
তার বক্তব্যে উঠে আসে, গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি হলো মানুষের কথা বলার অধিকার। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সেই অধিকারেরই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। যখন গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, তখন সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম উন্মোচিত হয় এবং জনগণের মতামত নীতিনির্ধারণে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ পায়। বিপরীতে, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত বা ভীতসন্ত্রস্ত হলে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন সময় গেছে, যখন ভিন্নমত প্রকাশ করলেই নানা ধরনের চাপ, মামলা বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সেই অন্ধকার অধ্যায়ে আর ফিরে যেতে চায় না দেশ। বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার সময় এসেছে, যেখানে মতভিন্নতাকে শত্রুতা হিসেবে দেখা হবে না।
তার মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেবল রাজনীতিবিদ বা সাংবাদিকদের বিষয় নয়; এটি সাধারণ নাগরিকেরও অধিকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদপত্র, টেলিভিশন কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—সবখানেই মানুষের মত প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে, যতক্ষণ না তা আইন ও শালীনতার সীমা অতিক্রম করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া। যে দল আজ ক্ষমতায়, কাল সে বিরোধীতে যেতে পারে। তাই এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে রাষ্ট্রীয় শক্তি কোনো দলের স্বার্থে ব্যবহার না হয়ে গণতান্ত্রিক নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিকশিত হয় না। ভয় বা চাপের পরিবেশে সত্য উদঘাটন কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে জনগণ প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত হয়।
তার আহ্বান—রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা বাড়াতে হবে। মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু তা দমন নয়, সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে একটি পরিবেশ তৈরি করা গেলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
সর্বোপরি, তিনি যে বার্তা দিয়েছেন তা হলো—গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়; এটি সমগ্র জাতির অর্জন। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
reporter

