ছবি: ফাইল ছবি
পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল ভারতের বিপক্ষে ভরাডুবির পর কার্যত ‘বাঁচা-মরার’ ম্যাচে দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছে। ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে নামিবিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলকে ১০২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে তারা। টুর্নামেন্টটি আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—যেখানে গ্রুপ পর্বের শেষ দিনে সমীকরণ ছিল বেশ জটিল। তবে সব হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে ব্যাটে-বলে পূর্ণ আধিপত্য দেখিয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়ে নিয়েছে পাকিস্তান।
ম্যাচের আগে পরিস্থিতি ছিল চাপে ভরা। তিন ম্যাচ জিতে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করে ফেলেছিল ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও চার ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে ছিল। সমান পয়েন্ট থাকলেও নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় পাকিস্তান ছিল তিন নম্বরে। ফলে এই ম্যাচে হারের অর্থই ছিল বিদায়। এমন বাস্তবতায় টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান—এবং শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতার ছাপ রাখে।
ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান খেলেন ক্যারিয়ারসেরা এক ইনিংস। ৫৮ বলে ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায় অপরাজিত ১০০ রান করে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তিনি। তার ব্যাটিংয়ে ছিল দৃঢ়তা, সময়োপযোগী শট নির্বাচন এবং চাপ সামলানোর পরিপক্বতা। ইনিংসের শুরুতে সতর্ক থাকলেও মধ্য ওভারে গতি বাড়িয়ে প্রতিপক্ষ বোলারদের ছন্দ নষ্ট করে দেন। শেষ দিকে শাদাব খান ও সালমান আলী আঘার ঝোড়ো ব্যাটিং স্কোরকে নিয়ে যায় ১৯৯ রানে। ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৯—চাপের ম্যাচে নিঃসন্দেহে লড়াকু সংগ্রহ।
সালমান ২৩ বলে ৩৮ রান করেন, আর শাদাব ২২ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। দু’জনের ইনিংসেই ছিল কার্যকর বাউন্ডারি ও দ্রুত রান তোলার প্রবণতা, যা পাকিস্তানকে ২০০ ছোঁয়ার কাছাকাছি নিয়ে যায়। নামিবিয়ার পক্ষে জ্যাক ব্রাসেল ৪৮ রান খরচায় ২ উইকেট নিলেও অন্য বোলাররা ধারাবাহিকতা রাখতে পারেননি।
২০০ রানের লক্ষ্যে নেমে নামিবিয়া শুরুটা মন্দ করেনি। তবে ওপেনিং জুটি ভাঙার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যায়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। মিডল অর্ডার কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। লউরেন স্টিনক্যাম্প ২২ বলে ২৩ এবং অ্যালেক্সান্দার বুসিং-লভশেঙ্ক ২০ বলে ২০ রান করলেও তা ছিল অপ্রতুল। শেষ পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে ৯৭ রানে অলআউট হয়ে যায় নামিবিয়া।
পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণে ছিলেন উসমান তারিক ও শাদাব খান। উসমান ১৬ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। তার লাইন-লেন্থ ছিল নিখুঁত, বিশেষ করে মিডল ওভারে তার স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শাদাবও ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ছাপ রাখেন। পেস ও স্পিনের সমন্বিত আক্রমণে নামিবিয়াকে কার্যত কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি।
এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তান শুধু সুপার এইট নিশ্চিত করেনি, বরং নেট রান রেটেও বড় উন্নতি করেছে। ভারতের বিপক্ষে হারের পর দলটির আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন প্রভাবশালী জয় দলকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করবে। বিশেষ করে ফারহানের সেঞ্চুরি ও বোলারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ পারফরম্যান্স সুপার এইটের আগে বড় ইতিবাচক দিক।
এখন সামনে আরও কঠিন লড়াই। গ্রুপ পর্বে টিকে থাকার চাপ কাটলেও সুপার এইটে প্রতিটি ম্যাচই হবে উচ্চমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তবে এই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখিয়ে পাকিস্তান জানিয়ে দিল—চাপের মুখে তারা ঘুরে দাঁড়াতে জানে। সঠিক পরিকল্পনা ও দলগত পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলে শিরোপার দৌড়েও তারা প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
reporter


