ছবি: সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হওয়ায় বৈশ্বিক পর্যায়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা, সামরিক সংকেত এবং গোয়েন্দা তথ্যের জটিল সমীকরণ আন্তর্জাতিক মহলকে সম্ভাব্য সামরিক মুখোমুখির দিকে নজর রাখতে বাধ্য করছে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে সীমিত অথবা বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও সামরিক শক্তি পুনর্বিন্যাস, সৈন্য প্রত্যাহার, আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ, কূটনৈতিক সতর্কতা এবং নিরাপত্তা ঘাঁটি স্থানান্তরের মতো পদক্ষেপগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলমান উত্তেজনা সাম্প্রতিক সপ্তাহে চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানে গণবিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানায় এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে সরাসরি সমালোচনা করে কঠোর বার্তা দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে এর জন্য বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই সহায়তা পাঠাবে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সরকারের পরিবর্তন বা বাহ্যিক হস্তক্ষেপের দিকে ইঙ্গিতবাহী। এদিকে ইরান পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছে, তাদের ওপর হামলা হলে মার্কিন সেনা ঘাঁটি, আঞ্চলিক মিত্র রাষ্ট্র এবং আকাশপথ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে এবং প্রতিশোধ হবে বহুস্তরীয়। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা যুদ্ধ চায় না, তবে যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ—কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি কৌশলগত ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীকে স্থানান্তর করা এবং কিছু অঞ্চলে প্রতিরক্ষা মোতায়েন বৃদ্ধি। এর বিপরীতে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ সামরিক সংঘাত শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজার, নিরাপত্তা ভারসাম্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সবকিছু ভেঙে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিদদের মতে, ইরানের অবস্থান ভূরাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; দেশটি একদিকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক ও গালফ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে, অন্যদিকে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম হাব হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের ওপর সামরিক সংঘাত সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে সামরিক হামলা শুরু হলে তা নাও সীমিত পর্যায়ে থাকতে পারে; বরং আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে যা শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠিত করবে এবং বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর ভূমিকা নতুন করে নির্ধারণ করবে। বিপরীতে, যদি সামরিক হামলা না হয়, তবে চলমান উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের দিকে যেতে পারে, যার ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক জোটগুলোয় ভাঙন দেখা দিতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ এবং সামরিক কৌশল নির্ধারণ করতে পারে।
repoter

