ছবি: সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আলোচনার মাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকায় বিএনপির নেতারা একাধিক বক্তব্য ও সতর্কতায় ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের উদ্যোগে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আগামী নির্বাচন যদি কোনোভাবে ব্যত্যয়ে পর্যবসিত হয় বা স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার বাইরে যায়, তাহলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বিঘ্নিত হতে পারে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তি দুর্বল হতে পারে এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে অনিশ্চয়তায় পূর্ণ। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক প্রভাবশালী শক্তিগুলোর উপস্থিতিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠছে, যেখানে প্রতিবেশী রাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন ধরনের কূটনৈতিক ও নীতিগত অবস্থান বাংলাদেশে নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনা ও বিশ্লেষণে প্রভাব ফেলছে। দুদু বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন হলেও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং প্রার্থী, ভোটার ও রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বমানের নির্বাচন আয়োজনের জন্য অপরিহার্য। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন দলগুলোর মধ্যেও নির্বাচনকে ঘিরে সমতা ও ন্যায্যতার দাবি উঠছে, যা নির্দেশ করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের সমীকরণ ও চাপ তৈরি হয়েছে। বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কৃষক-শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে, অথচ সরকারের হাতে সময় কম হওয়ায় নীতিগত পরিবর্তন বা জরুরি সহায়তার মাধ্যমে চাপ কমানোর সুযোগও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে গ্রহণযোগ্য হয় এবং জনগণ যাতে বিশ্বাস করতে পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সেনাবাহিনীসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় ও মাঠপর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস ঘটনার উদাহরণ নির্বাচনকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং এসব ঘটনা প্রতিরোধেই সরকারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পথ দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত, আন্দোলন, রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকা, দলীয় বিভাজন এবং আন্তর্জাতিক চাপের মাঝে ওঠানামা করেছে, যার ফলে প্রত্যেকটি নির্বাচনই রাজনৈতিক সঙ্কটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। ভোটের হাওয়া জোরালো হতে থাকায় নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি নির্বাচনের ফলাফল ও প্রক্রিয়ার ওপর নিবদ্ধ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনে গ্রহণযোগ্যতা যত বেশি, ভবিষ্যৎ সরকারের বৈধতা, স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক নীতির কার্যকরতা তত বেশি সুদৃঢ় হয়। তাই আগামীর সরকার গণতান্ত্রিক উত্তরণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারক ভূমিকা পালন করবে। বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে দায়িত্ব হচ্ছে উত্তেজনা নয়, বরং সংলাপ, সমঝোতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা।
repoter

