ছবি: ফাইল ছবি
২০২৬ সালের বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) এইবারও দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। লিগের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ছয়টি দল মিলিয়ে মাঠে নেমেছেন মোট ৪০ জন বিদেশি ক্রিকেটার। লিগের অর্ধেকের বেশি সময় পার হওয়ায় প্রশ্ন ওঠেছে—এই বিদেশি ক্রিকেটাররা আসলেই কোনো ছাপ ফেলতে পেরেছেন কি না, নাকি তারা শুধুই আসছেন ও যাচ্ছেন, স্রেফ উপস্থিতি দিচ্ছেন?
পরিসংখ্যান দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শীর্ষ ১০ রান সংগ্রাহকের তালিকায় বিদেশি ক্রিকেটারের সংখ্যা মাত্র চারজন। বোলারদের ক্ষেত্রে শীর্ষ ১০-এ তিনজন বিদেশি ক্রিকেটারই রয়েছেন। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বলা যায়, বেশির ভাগ বিদেশি খেলোয়াড় টানা ম্যাচ খেলে না। নানা কারণে তারা দলকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সঙ্গে রাখতে পারেননি।
যারা নিয়মিত খেলেছেন, তারাও আসলেই কতটা প্রভাব ফেলতে পেরেছেন—এটি পর্যালোচনা করার প্রয়োজন। রংপুর রাইডার্সের কোচ মিকি আর্থার বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বিদেশি ক্রিকেটারদের দু’টি ভূমিকা থাকতে হয়। প্রথমত, তাদের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলের উপর প্রভাব রাখা। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নতিতে সাহায্য করা। এই দুই ভূমিকা সফলভাবে পালন করা সহজ নয়।
চট্টগ্রাম রয়্যালস দলের উদাহরণ এই দিকটি স্পষ্ট করে। টুর্নামেন্টের ঠিক আগে তাদের মালিকানা পরিবর্তন হয়। শুরুতে তারা খেলেছিল মাত্র দু’জন বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে। তারপরও দলের শীর্ষ দুই অবস্থানে থাকা এবং খেলোয়াড়দের ভাল পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম রসিংটন ও পাকিস্তানের পেসার আমির জামালের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তবে রসিংটন চোটের কারণে ছয় ম্যাচ খেলে ২৫৮ রান করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান।
ছোট ছোট অবদানও আছে। কয়েকটি ম্যাচে বিদেশি ক্রিকেটাররা ঝলক দেখিয়েছেন, কিন্তু হঠাৎ করে তাদের পারফরম্যান্সকে প্রভাবশালী বলা কঠিন। এদিকে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আসার মূল দ্বিতীয় দিক—তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নতিতে অবদান—তাও এই বিপিএলে কম চোখে পড়েছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার মনে করেন, বিদেশি ক্রিকেটারদের আসা-যাওয়ায় এবং যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে তারা তরুণ খেলোয়াড়দের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারছেন না।
এবছরের বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের প্রভাব রাখতে পারার সম্ভাবনা কম। নামকরা খেলোয়াড় যেমন মঈন আলী, ডেভিড ম্যালান, জিমি নিশাম প্রভৃতি খেলছেন, তবে টুর্নামেন্টের ধারাবাহিক উপস্থিতি ও প্রভাবের দিক থেকে বড় পার্থক্য দেখা যায়নি। বিপিএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের আসা-যাওয়া সাধারণ ঘটনা। শুরুতে আইএল টি-টোয়েন্টি এবং জাতীয় দলের ব্যস্ততার কারণে অধিকাংশ বিদেশি খেলোয়াড় ২-৩ ম্যাচের বেশি স্থায়ী হননি।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের পরিবর্তিত বাস্তবতাও বিষয়টির সাথে যুক্ত। আগের দিনগুলিতে ছোট সময়ের জন্য এসে AB ডি ভিলিয়ার্স, আন্দ্রে রাসেল বা ক্রিস গেইলের মতো তারকারা পারফরম্যান্স দিয়ে ছাপ রেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে বিপিএলে সেই জৌলুশ নেই। বিদেশি খেলোয়াড়রা দলকে খেলোয়াড় হিসেবে শক্তিশালী করছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মোটের ওপর, বিপিএল ২০২৬-এ বিদেশি ক্রিকেটাররা তাদের পারফরম্যান্স ও স্থানীয় তরুণ খেলোয়াড়দের উন্নয়নে যথেষ্ট ছাপ ফেলতে পারেননি। লিগের প্রথম অর্ধেক শেষ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, শুধু আংশিক অবদান বা ঝলকই আছে, কিন্তু ধারাবাহিক প্রভাব নেই। এই পরিস্থিতি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও বিদেশি খেলোয়াড়দের আসা-যাওয়ার সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন।
repoter

