ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
১৫ জানুয়ারী ২০২৬ , ১১:৩০ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* ব্যবসার পরিবেশ গণতান্ত্রিক করতে আমলাতন্ত্র কমানোর প্রতিশ্রুতি দিল বিএনপি নেতৃত্ব * ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের বক্তব্যে ঐক্যের আহ্বান * নির্বাচনে মাত্র ৪ শতাংশ নারী প্রার্থী নিয়ে দলগুলোর জবাবদিহি দাবি নারী অধিকারকর্মীদের * নির্বাচনে কারসাজির চেষ্টা হলে পালাতে হবে, সতর্ক করলেন জামায়াত আমির * কারওয়ান বাজার নিয়ন্ত্রণের বিরোধে কনট্রাক্ট কিলিং, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির হত্যা মামলায় তিন সহোদরসহ চারজন গ্রেপ্তার * চট্টগ্রাম-৯ আসনে আপিলে প্রার্থিতা না-ফেরা ফজলুল হকের অভিযোগ, দ্বৈত নাগরিকত্বে কমিশনের কঠোরতা প্রশ্নে আলোচনা * ইরানে রাতভর সংঘর্ষে নিহতের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, তথ্য যাচাইয়ে জটিলতা * মুস্তাফিজ ইস্যুকে জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে তুললেন বিএনপি মহাসচিব, আইনশৃঙ্খলা ও নদী–কূটনীতি ইস্যুতেও সরকারের সমালোচনা * বিএনপির গণভোট–কেন্দ্রিক পরিকল্পনায় নতুন গতি, বিদেশি যোগাযোগে সক্রিয় কূটনীতি ও মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় জোরদার * হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ

ব্যবসার পরিবেশ গণতান্ত্রিক করতে আমলাতন্ত্র কমানোর প্রতিশ্রুতি দিল বিএনপি নেতৃত্ব

repoter

প্রকাশিত: ০১:৫৫:২৫অপরাহ্ন , ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ০১:৫৫:২৫অপরাহ্ন , ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আধুনিক, প্রতিযোগিতামূলক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রাজধানীতে ‘গ্যাপএক্সপো-২০২৬’ ও ‘গার্মেনটেক বাংলাদেশ-২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এখনো এমন এক প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়, যেখানে অনুমোদন, নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় সংস্থার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ প্রায় প্রতিটি ধাপে বাধ্যতামূলক হয়ে আছে। এর ফলে ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি, সময় নষ্ট ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাঁর মতে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভর করে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে দুর্বল করে, কারণ এতে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারে না। তিনি বলেন, “যে ধরনের অর্থনৈতিক কাঠামো দরকার, সেখানে প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনই হবে প্রধান চালিকাশক্তি। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব না হওয়ায় বাজারের স্বাভাবিক প্রবাহ বিকৃত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

খসরু আরও বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া যত বেশি স্বচ্ছ হবে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সরাসরি যোগাযোগ যত কমবে, অর্থনীতি তত বেশি স্থিতিশীল হবে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে ব্যবসার বিভিন্ন প্রক্রিয়া, কর আদায়, ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, অনুমোদন ও পরিষেবা পুরোপুরি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করা হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় সাক্ষাৎ ও আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব কমে যায়। এতে সরকার যেমন রাজস্ব সংগ্রহে সহজতা পাবে, তেমনি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনা হবে সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষ। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কাঠামো কার্যকর হলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, “উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তারা ঝুঁকি নিচ্ছেন, চাকরি সৃষ্টি করছেন ও রপ্তানি বাড়াচ্ছেন। তাদের ভোগান্তি কমাতে আমরা নানা ধরনের ডিজিটাল সেবা চালু করেছি।” তিনি জানান, রাজস্ব বোর্ড কর কাঠামো সহজ করার পাশাপাশি ইভালুয়েশন ও ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়াকে সময়োপযোগী করতে কাজ করছে। তিনি মনে করেন, কর ও শুল্ক নীতিতে পূর্বানুমানযোগ্যতা থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে পোশাক খাতই সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত, যেখানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষ যুক্ত। শুধু ২০২৪ অর্থবছরেই এই খাত থেকে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তাই এই খাতে নতুন উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তি ও বাজার বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা করছেন। গ্যাপএক্সপো ও গার্মেনটেক প্রদর্শনীগুলো মূলত এ বিষয়গুলোর ওপরই জোর দেয়—বিশেষ করে মেশিনারি, অটোমেশন, স্মার্ট টেক্সটাইল, টেকসই কারখানা ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি।

খসরুর মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা বিএনপির সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক নীতির দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে নির্বাচন, শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্রসংক্রান্ত আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দলটির অর্থনৈতিক বয়ানকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, ব্যবসা সহজীকরণ (Ease of Doing Business), বাজারে প্রতিযোগিতা, দুর্নীতি কমানো ও ডিজিটাল রেগুলেটরি কাঠামো—এসবই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গত এক দশকে ডিজিটাল রূপান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং এসবই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করছে।

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, ব্যবসায়িক খরচ বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্য, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা ও শুল্ক-কর পরিবেশ—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। তাদের মতে, স্বচ্ছ নীতি, ডিজিটাল সার্ভিস ও পূর্বানুমানযোগ্যতা থাকলে বাংলাদেশের পোশাক খাত আরও এগোতে পারবে। গার্মেন্ট মালিকদের একজন বলেন, “শুধু রপ্তানি বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়—নতুন বাজার ধরতে হলে মান, ডিজাইন, উদ্ভাবন ও ব্র্যান্ডিং একইসঙ্গে দরকার।”

সব মিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজ করার পাশাপাশি আমলাতন্ত্র কমানোর প্রশ্নটি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রাজনীতির বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আগামী সরকারের অর্থনৈতিক নীতি কেমন হবে, বাজার কতটা উন্মুক্ত থাকবে এবং বিনিয়োগকারী বান্ধব পরিবেশ তৈরি হবে কি না—তা নিয়েই ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

repoter