ঢাকা,  রবিবার
১৮ জানুয়ারী ২০২৬ , ০৭:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* এনসিপি নেত্রী মনিরার অবস্থান ও নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের বার্তা * বিটিসিএল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি * বিপিএল ঢাকার পর্ব অনিশ্চয়তায়; নাজমুল ইস্যুতে ক্রিকেটারদের অনড় সিদ্ধান্ত * বিচারাধীন মামলার আপিল কার্যতালিকায়; আলোচনায় বহুল বিতর্কিত রায় * ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক হামলার আশঙ্কা * নির্বাচন ব্যত্যয়ের শঙ্কায় গণতন্ত্রের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা * ব্যবসার পরিবেশ গণতান্ত্রিক করতে আমলাতন্ত্র কমানোর প্রতিশ্রুতি দিল বিএনপি নেতৃত্ব * ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের বক্তব্যে ঐক্যের আহ্বান * নির্বাচনে মাত্র ৪ শতাংশ নারী প্রার্থী নিয়ে দলগুলোর জবাবদিহি দাবি নারী অধিকারকর্মীদের * নির্বাচনে কারসাজির চেষ্টা হলে পালাতে হবে, সতর্ক করলেন জামায়াত আমির

বিটিসিএল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি

repoter

প্রকাশিত: ০১:১৫:০২অপরাহ্ন , ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ০১:১৫:০২অপরাহ্ন , ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

ঢাকায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউসেট) ওয়েবসাইট ডোমেইন বন্ধ, হয়রানি, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে বিটিসিএলের তিন কর্মকর্তা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে আদালত অভিযোগ গ্রহণ করে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। মামলার বরাতে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিকূল আচরণ, গালিগালাজ, দাফতরিক কাজে অসহযোগিতা এবং হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে হয়রানির পরিবেশ তৈরি করেন। অভিযোগে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে তাদের ওয়েবসাইটের ডোমেইন ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা বজায় রাখতে ও অ্যাডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড বাইরে না যাওয়া নিশ্চিত করতে আগেই বিটিসিএলকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তবে পরবর্তী পর্যায়ে ডোমেইন সংক্রান্ত আপত্তি দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ শুনানি ও কাগজপত্র জমার নির্দেশ দেয়, যা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ জমা দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত অসন্তোষে কাগজপত্র গ্রহণ না করে অযাচিত অজুহাত দেখান এবং শুনানি বাবদ টাকা জমার মেয়াদ অতিক্রান্ত হয়েছে বলে ফেরত পাঠান, অথচ আগে কোনো সতর্কতা বা সময় পরিবর্তনের বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ হাইকোর্টে রিট করে ডোমেইন বন্ধ না করার নির্দেশনা চায়। রিট দায়েরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা তাজুল ইসলাম বিটিসিএলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বিটিসিএলের এক কর্মকর্তা ক্ষুদ্ধ হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন এবং ভবিষ্যতে অফিস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি করার হুমকি দেন। মামলায় আরও দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ল’ইয়ার্স সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং আবেদন গ্রহণ শাখার কর্মচারীদেরও তা গ্রহণ না করার নির্দেশ দেন, যা দাফতরিক দায়িত্বে স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতার পরিপন্থী আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হলেও তা উপেক্ষা করে জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ওয়েবসাইট হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা ব্যবস্থাকে গুরুতর ভোগান্তিতে ফেলেছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করে ডোমেইন বন্ধ, হুমকি ও হয়রানিমূলক আচরণের কারণে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মামলার প্রেক্ষিতে আদালত সিআইডিকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমার পরবর্তী প্রক্রিয়া আদালত সম্পাদন করবে বলে জানানো হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট পক্ষ কোনো মন্তব্য না করলেও একে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, দাফতরিক অনিয়ম ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আদালতের নির্দেশে তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি পথ নির্ধারণ করবে। ঘটনাটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনা, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় ও ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন উচ্চশিক্ষা খাত ডিজিটালভাবে পরিচালিত হওয়ায় এমন ডোমেইন বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। অভিযোগ ও তদন্ত নির্দেশের পর এখন নজর থাকছে সিআইডির প্রতিবেদনের দিকে, যার ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হবে।

repoter