ছবি: খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়াকে ফুলের তোড়া তুলে দিচ্ছেন দলে নবাগতদের কয়েকজন। গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার একটি কমিউটিনিটি সেন্টারে
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় রাজনীতির দৃশ্যপটে নতুন মোড় নিয়ে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ বিভিন্ন দলের পাঁচ শতাধিক নেতা–কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, যা স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানকারীরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার হাতে ফুলের তোড়া প্রদান করে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ মাটিরাঙ্গা পৌরসভা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, এনসিপির উপজেলা দায়িত্বশীল লিটন বিশ্বাসসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ও কর্মী। যোগদানকারীদের বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ইস্যু, দলগুলোর কর্মসূচি, মাঠ পর্যায়ে সংগঠনের সক্রিয়তা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। তাঁদের ভাষ্যে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে দলবদলের প্রবণতা বেড়েছে এবং বিএনপির আন্দোলন ও প্রচারণাকে তারা বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। যোগদান অনুষ্ঠানে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, বিএনপির সংগঠন আগের তুলনায় মাঠে শক্তিশালী হয়েছে এবং খাগড়াছড়ি অঞ্চলে ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নতুন কর্মী ও নেতা যুক্ত হওয়ায় সাংগঠনিক কাঠামো আরও বিস্তৃত হবে। তিনি আরও বলেন, তাঁদের উদ্দেশ্য কোনো সংঘাত নয় বরং ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা পুনঃস্থাপন করা, যা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ও এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার মতে, যোগদানকারী নেতৃত্বের একটি অংশ আগে থেকেই রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় ছিলেন এবং তাঁদের দলত্যাগ নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না, কারণ নির্বাচনী প্রভাব তৈরি হয় মূলত সক্রিয় ভোট ব্যাংক ও মাঠ পর্যায়ের সংগঠনের ওপর। তাঁদের মন্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে, স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে দলগুলোর ভেতরে ভাঙন, শহর–গ্রামভিত্তিক সংগঠনের পার্থক্য এবং প্রভাবশালী নেতা–কর্মীদের অবস্থান পরিবর্তন রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চল খাগড়াছড়ি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং এখানে বহু বছর ধরে পাহাড়ি–বাঙালি রাজনৈতিক ধারা, বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের ভূমিকা, দলীয় কৌশল ও নির্বাচনী জোটের প্রশ্নে ভিন্ন ভিন্ন মতবিরোধ লক্ষ্য করা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই যোগদান অনুষ্ঠানকে তারা নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ এবং সংগঠন শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা দাবি করেন, যোগদানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা বিতর্কিত অভিযোগ নেই, ফলে দলের সাংগঠনিক ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কম, বরং মাঠ পর্যায়ে প্রচারণায় সহায়ক হবে। তাঁদের বক্তব্যে আরও উঠে আসে যে, দীর্ঘদিন সরকারি দল বা বিভিন্ন জোটের রাজনীতি করে থাকা নেতাদের দলবদল সাধারণ ভোটারের কাছে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে গুরুত্ব পায়, কারণ তারা ভোট প্রবণতা ও রাজনৈতিক পরিবেশ প্রভাবিত করতে পারেন। এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে যে, দলবদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে নতুন জোট গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হবে কি না এবং বিএনপি যোগদানকে কেবল নির্বাচনী কৌশল নাকি দীর্ঘমেয়াদি সংগঠন পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপি সম্প্রতি পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে সমাবেশ, গণসংযোগ ও সংগঠনের পুনর্গঠনের মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য কৌশল সাজাচ্ছে। তাই মাটিরাঙ্গার এই যোগদান অনুষ্ঠানকে তারা একটি প্রতীকী ঘটনার পাশাপাশি কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে দলগুলোর ভেতরে দলবদল প্রবণতা ভবিষ্যতের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন হিসাব তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
repoter

