ছবি: সংগৃহীত ছবি
ঝিনাইদহ–৪ আসনকে জাতীয়তাবাদের উর্বর এলাকা উল্লেখ করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেছেন, এ আসনে দলের প্রতীক ধানের শীষের বিজয় আটকানো যাবে না এবং যে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা রাজনৈতিক চক্রান্তের মধ্যেও জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে। মঙ্গলবার দুপুরে কালীগঞ্জের ফয়লা রোডে দলীয় কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং দলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়টি সংগঠনীভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নাম উল্লেখ করে বলেন, কার্যত দলের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করা মানে উচ্চপর্যায়কে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা, যা রাজনৈতিকভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এ সময় তিনি বলেন, দলের ভেতর ক্ষোভ, অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকলেও তা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বা বিভক্ত ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করা উচিত নয়; বরং ঐক্য ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করাই সমীচীন।
এ সভায় রাশেদ খান আরও বলেন, বিএনপি ও তারেক রহমানকে বিজয়ী করার লক্ষ্য থেকে দলীয় প্রতীককেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি পরিস্থিতিকে বিভাজিত করে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র ঝিনাইদহ–৪ নয়, দেশের অন্যান্য আসনেও যেসব স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন কিংবা মনোনয়ন সংক্রান্ত অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, সেসব ক্ষেত্রেই কৌশলগত ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, দলের ক্ষতির বিনিময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কোনওভাবেই দলের জন্য উপকারী নয় এবং বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের লক্ষ্যও এতে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিভক্ত ভোট প্রতিপক্ষকে সুবিধা দিয়েছে এবং তাই নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে দলগত শক্তিকে সুসংহত রাখা আবশ্যক।
সভা শেষে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকা, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিভেদ এড়িয়ে সংগঠনকে শক্ত ভিত্তিতে দাঁড় করানোই বর্তমান পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সঠিক কৌশল। তিনি বলেন, ঝিনাইদহ–৪ আসনে জনগণ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির পক্ষে সহমর্মী অবস্থানে রয়েছে এবং এবারও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন শেষে দলের ভেতরের অসন্তোষ ও অভিযোগগুলো সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব এবং দলের রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যই হচ্ছে প্রধান শক্তি।
repoter

