ছবি: নারীর রাাজনৈতিক অধিকার ফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নারী অধিকারকর্মীরা। ডিআরইউর সাগর-রুনি মিলনায়তন, ঢাকা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২ হাজার ৫৬৮ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে মাত্র ১০৯ জন নারী, যা প্রায় ৪ শতাংশের সামান্য বেশি, এই কমসংখ্যক নারী প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি দাবি করেছেন নারী অধিকারকর্মীরা। রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জুলাই সনদ ২০২৫ অনুযায়ী প্রতিটি দলকে অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন নিশ্চিত করার কথা থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫১টি দলের মধ্যে ৩০টি দলই কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি, যা ন্যূনতম মানদণ্ডও পূরণ করতে ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয় এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তুলে ধরে। বক্তব্যে বলা হয়, ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারীর মনোনয়ন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য লক্ষ্য হতে পারে না; সাধারণ আসনে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী নিশ্চিত করা ছাড়া নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, নারীরা নির্বাচনে জিততে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দেখালেও দলগুলো তাঁদের জেতানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বা সমতল প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে কি না সে বিষয়ে নীরব থাকে; ফলে নারীর প্রার্থীতা গভীরভাবে কাঠামোগত বাধার মুখে পড়ে। বক্তারা অভিযোগ করেন, নারীর প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি প্রায়ই প্রতীকী ও অনুগ্রহমূলক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে; বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মনোনয়ন বণ্টন ও নেতৃত্ব বিকাশে নারীর সুযোগ কম। সংবাদ সম্মেলনে চারটি দাবি তুলে ধরে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতার ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনকে জনগণের সামনে আনতে হবে, নারী প্রার্থী মনোনয়নে নীতিমালা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কমিশনকে আরও দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে, দলগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে কাঠামোগত পরিবর্তনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
repoter

