ছবি: মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে দুই সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতা চলছে। গতকাল রোববারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। অনেক স্থানেই বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার রাতে তেহরানের একটি মসজিদে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী। ছবি-দ্য গার্ডিয়ান
ইরানে রাতভর সংঘর্ষের পর রাস্তাজুড়ে পড়ে থাকা লাশের ছবি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও দেশটিতে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ সংকটের কারণে পরিস্থিতির নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে; দেশ ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বর্ণনায় দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরে সশস্ত্র বাহিনী ও বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং মৃতদেহগুলো রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে—বিক্ষোভ দমনে সরকারের শক্তি প্রয়োগ কতটা বিস্তৃত; তবে সরকারি পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো মৃত্যুর সংখ্যা বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, বরং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে ‘বিদেশি উসকানি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে; এদিকে স্বাধীন যাচাইকারী সংগঠন ফ্যাক্টনামে বলছে, অনলাইনে ছড়ানো অনেক ছবির সত্যতা মিললেও, ছড়িয়ে পড়া তথ্যের উৎস ও সময় নির্ধারণ অত্যন্ত কঠিন এবং ইন্টারনেট শাটডাউন পরিস্থিতিকে আরও অস্পষ্ট করে তুলেছে, ফলে বিক্ষোভের পরিসর, নিহতের সংখ্যা ও সরকারি প্রতিক্রিয়ার মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না; পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় পশ্চিমা দেশগুলো সংযত থাকার আহ্বান জানালেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানকে ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ’ ও ‘নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত’ করার দাবি তুলেছে, অন্যদিকে ইরান বলছে বাহ্যিক চাপ তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ; সামগ্রিকভাবে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা, জনমতের মনোভাব ও সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
repoter

