ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৮ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

চলন্ত বাসে ডাকাতি: মাদক কেনার টাকার জন্য ভয়ঙ্কর অপরাধ

reporter

প্রকাশিত: ০৭:২৯:২২অপরাহ্ন , ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৭:২৯:২২অপরাহ্ন , ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িতদের সবাই মাদকাসক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদক কেনার অর্থ সংগ্রহ করতেই তারা এই ভয়ঙ্কর অপরাধ সংঘটিত করেছে। বাস থেকে লুট করা মোবাইল বিক্রির অর্থ দিয়ে তারা গাঁজা সংগ্রহ করে বলে জানা গেছে। এই সূত্র ধরেই পুলিশ ডাকাত দলের সন্ধান পেয়ে অভিযান চালিয়ে সাভার থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের অর্থ সংগ্রহ করতে তারা সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই এবং নানা অপরাধমূলক কার্যক্রমে লিপ্ত। এই চক্রের সদস্যরা নিয়মিতভাবে অপরাধ সংঘটিত করে আসছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত সোমবার মধ্যরাতে ইউনিক রোড রয়েলসের একটি যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। রাত ১১টায় ঢাকার গাবতলী থেকে বাসটি উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি বাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় এবং তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতির সময় নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে।

এই ঘটনার পর বাসের এক যাত্রী, ওমর আলী, মির্জাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) এসআই মো. আহসানুজ্জামান। তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে যে ডাকাত দলের সদস্যরা সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই এলাকার কিছু যুবক নেশার টাকা সংগ্রহ করতে ডাকাতি, ছিনতাই এবং চুরি করে। তারা নিয়মিতভাবে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে গাঁজা ও হেরোইন সংগ্রহ করে।

পুলিশ এই তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার বিকেলে সাভারের চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের একটি পেট্রলপাম্পের সামনে থেকে ওই মাদক কারবারিকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, কিছুদিন আগে ডাকাত দলের কয়েকজন সদস্য মোবাইল ফোনের বিনিময়ে তার কাছ থেকে গাঁজা সংগ্রহ করেছিল। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শহিদুল ইসলাম, সবুজ ও শরীফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম ওরফে মহিদুল ওরফে মুহিত মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার লাউতারা গ্রামের বদর উদ্দিন শেখের ছেলে। সবুজ শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের ইসমাইল মোল্লার ছেলে এবং শরীফুজ্জামান সাভারের টানগেন্ডা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। পুলিশ জানায়, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও তিনটি মাদকের মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে তারা সবাই ওই বাস ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মো. সবুজ ও শরীফুজ্জামান টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তারা পুলিশের কাছে আরও তিনজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছে, যাদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আহসানুজ্জামান বলেন, "বাসে ডাকাতির সময় নারী যাত্রীদের ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি, তবে তারা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন। আমরা এই ঘটনায় আরও যেসব অপরাধী জড়িত আছে তাদের শনাক্ত করেছি এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"

এদিকে, বাস ডাকাতির ঘটনায় ভুক্তভোগী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে বাস পরিবহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

reporter