ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

বাংলাদেশের মানুষের জন্যই আমাদের সহযোগিতা, কোনো সরকারের জন্য নয়: চীনা রাষ্ট্রদূত

reporter

প্রকাশিত: ১২:৩২:০২পূর্বাহ্ন, ১১ মার্চ ২০২৫

আপডেট: ১২:৩২:০২পূর্বাহ্ন, ১১ মার্চ ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, চীনের সহযোগিতা বাংলাদেশের জনগণের জন্য, কোনো নির্দিষ্ট সরকারের জন্য নয়। তিনি বলেন, "চীন সবসময় একটি দেশ ও তার জনগণের পাশে থাকে, কোনো নির্দিষ্ট সরকারের পাশে নয়।" মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে 'বাংলাদেশে চীনের জাতীয় ভাবমূর্তি' শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, "আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বা কোনো দেশের অভ্যন্তরে যে পরিবর্তনই হোক না কেন, আমাদের নীতি স্পষ্ট। চীন অংশীদার হিসেবেই থাকবে। আমাদের সহযোগিতা বাংলাদেশ, দেশের জনগণ ও চীনা জনগণের জন্য।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা, ঐক্য ও গণতন্ত্রের বিকাশ দেখতে চায়। এ ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের আগামী ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চীন সফর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, "চীন বিশ্বের সব দেশের প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানায়। তবে এই মুহূর্তে এ সফরের অগ্রাধিকার সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।" তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের কোনো সর্বজনীন রূপ নেই এবং এটি দেশ থেকে দেশে ভিন্ন হতে পারে। কোনো দেশের জনগণই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অলটারনেটিভ আয়োজিত এই সেমিনারে ২০২৪ সালের একটি জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ। জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৯৯ শতাংশ চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে সমর্থন করে। এছাড়া, ২০২৪ সালে প্রায় ৬৭ শতাংশ বাংলাদেশি চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা ২০২২ সালের ৬০ শতাংশের তুলনায় বেশি।

জরিপে আরও বলা হয়, অন্তত ৭৫ শতাংশ বাংলাদেশি উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে ব্যক্তিগতভাবে যেতে বা তাদের সন্তানদের পাঠাতে ইচ্ছুক, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, "বাংলাদেশিরা চীনা বিনিয়োগকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানায় এবং বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন, নির্মাণ ও দারিদ্র্যবিমোচনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলে থাকেন।"

তিনি আরও বলেন, "এই তথ্যগুলো বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে চীনকে আস্থা জুগিয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে ১৪টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে ২১৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া, গণঅভ্যুত্থানে আহত রোগীদের প্রথম একটি দল গত ১০ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য চীনে গেছেন বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, "এটি মূলত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমস্যা। চীন এতে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু মিয়ানমারে, বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেই প্রচেষ্টা থমকে গেছে।"

সেমিনারে উপস্থিত বক্তারা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও গভীর ও অর্থবহ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, চীন বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সহযোগিতা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই সহযোগিতা কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা সরকারের ওপর নির্ভরশীল নয়।

reporter