ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৩ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নৈশভোজে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের উপস্থিতি

reporter

প্রকাশিত: ১১:২৭:৩১পূর্বাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ১১:২৭:৩১পূর্বাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কে আগত বিশ্বনেতাদের সম্মানে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন। এ আয়োজনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ড. ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই অভ্যর্থনা নৈশভোজে ড. ইউনূসের সঙ্গে তার মেয়ে দীনা ইউনূসও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দীনা ইউনূস একসঙ্গে ছবি তোলেন, যা ইতোমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রতি বছর বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা একত্রিত হন। এ সময় বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও পারস্পরিক কূটনৈতিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আয়োজিত হয় আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ট্রাম্পের আয়োজিত এ সংবর্ধনায় ড. ইউনূসের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অংশগ্রহণকে আরও দৃঢ় করেছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।

অভ্যর্থনা নৈশভোজে অংশ নেওয়ার সময় ড. ইউনূস বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন। তিনি ট্রাম্পকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রেস উইংয়ের বার্তায় জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার এ আমন্ত্রণ আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন। যদিও সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের নানা সেশন ও আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, দারিদ্র্য হ্রাস, সামাজিক ব্যবসা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ হিসেবে ড. ইউনূস দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন। এবারের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে তার অংশগ্রহণ দেশকে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, নিউইয়র্কে আয়োজিত ট্রাম্পের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ছাড়াও জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। নৈশভোজ শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতিথিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন এবং তাদের সঙ্গে আলোকচিত্রে অংশ নেন।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের এই সফর শুধু জাতিসংঘের মঞ্চেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে, সামাজিক ব্যবসা, ক্ষুদ্রঋণ এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের পক্ষে ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই নৈশভোজ এবং ড. ইউনূসের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী বার্তা বহন করে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র এবং দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ড. ইউনূসের আলাপচারিতা সেই সম্ভাবনারই প্রতিফলন।

সর্বোপরি, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এ অধিবেশন কেবল বৈশ্বিক ইস্যুতে সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বানই জানায়নি, বরং কূটনৈতিক সৌজন্যের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের পথও সুগম করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

reporter