ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৬ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

সংসদ ব্যতীত সাংবিধানিক সংস্কার গ্রহণযোগ্য নয়: সালাহউদ্দিন আহমেদ

reporter

প্রকাশিত: ০৬:৩২:৫৫অপরাহ্ন , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৬:৩২:৫৫অপরাহ্ন , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

সাংবিধানিক সংস্কারের একমাত্র ফোরাম সংসদ—এই অবস্থানেই অনড় রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মতে, নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই সংসদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধানে হাত দেওয়া যাবে না। এমন চেষ্টা অসাংবিধানিক হবে এবং এর কোনো আইনি বৈধতা থাকবে না।

বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বিএনপি এই অবস্থান তুলে ধরে। এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে সংবিধান পরিবর্তন কিংবা সংশোধন সংসদ ছাড়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “সংবিধান সম্পর্কিত যেকোনো সংশোধন কিংবা পরিবর্তন জাতীয় সংসদেই হতে হবে। সংসদের বাইরে গিয়ে যদি কোনো প্রক্রিয়ায় সংস্কারের চেষ্টা হয়, তবে তা আইনি দিক থেকে বলবৎযোগ্য হবে না।”

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, যেসব বিষয়ে সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেগুলো অধ্যাদেশ বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কার্যকর করতে পারে। তবে সাংবিধানিক সংস্কার সংসদ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে হলে তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং শাস্তিযোগ্যও হবে না।

সালাহউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর ভেতর থেকেই গঠিত হয়েছে। তাই সংবিধান রক্ষার দায়িত্বও এই সরকারের ওপর বর্তায়। তার মতে, এই কাঠামো ভেঙে সংবিধানের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ধারাবাহিকতা ভেঙে যাবে। তখন প্রশ্ন থেকে যাবে, সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা কে দেবে?

তিনি আরও বলেন, “সংবিধানবহির্ভূত কোনো পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকার গ্রহণ করতে পারে না। সংবিধান সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো সংসদেই আলোচিত এবং অনুমোদিত হতে হবে। সংসদের বাইরে গেলে তা আদালতের দৃষ্টিতেও গ্রহণযোগ্য হবে না।”

বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, সাংবিধানিক কাঠামো পরিবর্তন বা সংশোধনের যেকোনো উদ্যোগ সংসদ ছাড়া কার্যকর হবে না। আর এর ব্যতিক্রম ঘটলে তা হবে সরাসরি অসাংবিধানিক পদক্ষেপ।

দলটির অবস্থান হলো, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে যদি রাজনৈতিক ঐক্যমত্য হয়, তবে তা কার্যকর করতে পারে নির্বাচিত সংসদ। অন্তর্বর্তী সরকার সেই ঐক্যমত্যকে বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করতে পারে, কিন্তু সংসদের বাইরে থেকে কার্যকর করার এখতিয়ার তাদের নেই।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও প্রশ্ন তোলেন, “যদি সংবিধান বহির্ভূত পথে কোনো সংস্কার করা হয়, তার বৈধতা কোথা থেকে আসবে? আদালতও সেটি গ্রহণ করবে না।” তার মতে, এই অবস্থান শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নয়, দেশের আইনগত ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব হলো নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজন এবং বিদ্যমান সংবিধানের কাঠামোর ভেতর থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। সংবিধান পরিবর্তনের মতো মৌলিক বিষয় সংসদের বাইরে সম্ভব নয়, আর যদি এমন চেষ্টা হয়, তাহলে সেটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

বিএনপির এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সরকারের কর্তৃত্বের সীমা এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রশ্নটি সামনে আসছে।

বিএনপি মনে করছে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক সংস্কার, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের মতো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। কিন্তু সংবিধান পরিবর্তন একান্তভাবেই সংসদের বিষয়। দলটির দাবি, এটি শুধুমাত্র আইনগত বাস্তবতা নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানোর বিষয়ও বটে।

reporter