ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৩ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

রাজস্ব আদায়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আহ্বান এনবিআরের

reporter

প্রকাশিত: ০৮:৩২:৪৫পূর্বাহ্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

আপডেট: ০৮:৩২:৪৫পূর্বাহ্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না। চলতি অর্থবছরেও একই পরিস্থিতি বিরাজমান, যা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। এ প্রেক্ষাপটে এনবিআর আগামী তিন অর্থবছরের জন্য আরও বাস্তবসম্মত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ বিভাগের সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সতর্ক করে বলেন, যথাযথ পর্যালোচনা ও গবেষণা ছাড়া রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলে তা বছরের শেষে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা জরুরি। অতীতের ধারাবাহিক ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে অনুষ্ঠিত বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ২০২৫-২৬, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও এর অধীন সংস্থাগুলোর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৫,৬৪,৪১১.৯২ কোটি, ৬,৪৯,০৭৩.৭১ কোটি ও ৭,৪৬,৪৩৪.৭৬ কোটি টাকা।

তবে এনবিআরের মতে, এই লক্ষ্যমাত্রাগুলো প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত ছিল, যা বিগত বছরের রাজস্ব প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। চিঠিতে বলা হয়, উল্লিখিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো বাস্তবতা-বিমুখ এবং পর্যাপ্ত গবেষণা ছাড়া নির্ধারিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।

প্রতি বছর উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন সম্ভব না হওয়ায় এনবিআরের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে এনবিআরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘স্ফীত অঙ্কে বাজেট নির্ধারণ করা হলেও বছর শেষে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় এনবিআর কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।’

অন্যদিকে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমার সময়সীমা তিন দফা বাড়ানোর পর আজ শেষ দিন। এনবিআরের সর্বশেষ আদেশ অনুসারে, ৩০ জানুয়ারি সময়সীমা বৃদ্ধি করে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। যারা অনলাইনে নয়, বরং সনাতনী পদ্ধতিতে কাগুজে রিটার্ন জমা দিতে চান, তারা আজ নিজ নিজ কর কার্যালয়ে গিয়ে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর পর্যন্ত অনলাইনে ১৩ লাখ ৯৫ হাজারটি রিটার্ন দাখিল হয়েছে। বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা ১ কোটি ১২ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৩টি।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩০টি রিটার্ন দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল হয়েছে ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯টি। রিটার্ন দাখিলকারীদের মধ্যে ব্যক্তি করদাতা ২৪ লাখ ৭ হাজার ৫৩৬ জন এবং কোম্পানি করদাতা ১১ হাজার ১০৫ জন। এ সময়ে আয়কর আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।

করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার ঠিকানা হলো বঃধীহনৎ.মড়া.নফ। অনলাইনে রিটার্ন জমার আগে করদাতাকে প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হবে। এ দুটি তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে করদাতাদের কাগজপত্র আপলোড বা জমা দিতে হবে না। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করলেই হবে। এনবিআর আশা করছে, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতারা সহজে এবং দ্রুত রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।

reporter