ঢাকা,  শনিবার
২১ মার্চ ২০২৬ , ০৩:৩৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* বিশ্ব বাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে ঈদ যাত্রায় প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী * প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী * উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে মির্জা আব্বাসকে * সংসদ অধিবেশন শুরু বেলা ১১টায় * ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার * যুক্তরাষ্ট্রকে চমকে দিচ্ছে ইরানের পাল্টা আঘাত, বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব * মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন * ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী * পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ * অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: ৪০তম ধাপে ইসরায়েলে ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা

নেপালে কারাগারে সেনার গুলিতে দুই বন্দি নিহত, সহিংসতায় প্রাণহানি বাড়ছে

reporter

প্রকাশিত: ০৭:৪৩:১৬অপরাহ্ন , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৭:৪৩:১৬অপরাহ্ন , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

নেপালের রামেছাপ জেলা কারাগারে সেনাবাহিনীর গুলিতে দুই বন্দি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মুক্তির দাবিতে কারাগারে অবস্থানরত কয়েদিদের মধ্যে সংঘর্ষ দেখা দিলে সেনা সদস্যরা গুলি চালায়। এই ঘটনায় অন্তত ১২ জন বন্দি আহত হয়েছেন বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনারা এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার মাত্র একদিন আগে, মঙ্গলবার রাতে দেশটির বাঁকের বৈজনাথ গ্রামীণ পৌরসভার নওবাস্তা এলাকায় অবস্থিত একটি কিশোর সংশোধনাগারে পালানোর চেষ্টা করার সময় পাঁচজন কিশোর বন্দির মৃত্যু হয়। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা এবং পালানোর ঘটনা নেপালের কারাগার ব্যবস্থাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে চলমান জেন-জি আন্দোলনের প্রভাবেও অনেক বন্দি কারাগার ভাঙার চেষ্টা করেছে এবং এর ফলে নেপালের বিভিন্ন জেলা কারাগার থেকে পালানোর ঘটনা বেড়েছে।

নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানোর চেষ্টাকারী এবং ইতোমধ্যেই পালিয়ে যাওয়া কয়েকজন বন্দিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সপ্তারীর রাজবিরাজ জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৯২ জন বন্দিকে পুনরায় আটক করা হয়েছে।

এছাড়া, নেপাল-ভারত সীমান্তবর্তী কাঞ্চনপুর জেলার চাঁদনী এলাকায় সাতজন বন্দিকে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের নেপালি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, পালিয়ে যাওয়া ১২ জন বন্দি স্বেচ্ছায় আবার কারাগারে ফিরে এসে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম হিমালয়ান টাইমস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আরও জানানো হয়েছে, সংঘাত ও পালানোর প্রচেষ্টায় আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৬৮ জনে। আহতদের একটি বড় অংশকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।

ঘটনাগুলোকে ঘিরে নেপালের কারাগার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বন্দিদের প্রতি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ক্রমাগত পালানোর ঘটনা এবং প্রাণহানির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, নেপালের কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অমানবিক পরিবেশ বন্দিদের ক্ষোভ ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন ও পালানোর পথ বেছে নিচ্ছে, যা সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে।

অন্যদিকে সরকার ও সেনাবাহিনী দাবি করছে, কারাগার ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্দিদের পরিস্থিতি উত্তেজিত করে তুলেছে। তারা বলছে, বন্দিদের দাবিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি যেভাবে সহিংস আকার ধারণ করেছে, তাতে নিরাপত্তা বাহিনীকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। তবে এ ধরনের কঠোর ব্যবহারে বন্দিদের জীবনহানির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জি আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শুরু হওয়া এই সহিংসতার ঢেউ নেপালের বিচার ও কারাগার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে। এরই মধ্যে বহু বন্দি পালানোর চেষ্টা করছে, সীমান্ত অতিক্রম করছে এবং কেউ কেউ স্বেচ্ছায় ফিরে আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। 

reporter