ঢাকা,  মঙ্গলবার
১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৭:১৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মিজানুর রহমান মিনু * নতুন মন্ত্রিসভা গঠন: ৫০ সদস্যের সরকার, আজ শপথ * ঢাকা-১৭ আসনের দায়িত্বশীলদের নিয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি আলোচনা সভা * তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের প্রত্যাশা: সংসদ নেতা নির্বাচনে আশাবাদ বিএনপির * ধানের শীষ 🌾 পেয়েছে ৫০ শতাংশ, দাঁড়িপাল্লায় ৩২ শতাংশ ভোট * লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪ * পাকিস্তানকে হারিয়ে দাপুটে জয়ে সুপার এইটে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল * ফোকলা অর্থনীতি সচল করার কঠিন পরীক্ষায় নতুন সরকার * গালিগালাজ মানুষ আশা করেনি: ঢাকা-৮ আসনে জয়ের পর মির্জা আব্বাস * প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা, নির্বাচনী অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ

ধানের শীষ 🌾 পেয়েছে ৫০ শতাংশ, দাঁড়িপাল্লায় ৩২ শতাংশ ভোট

reporter

প্রকাশিত: ১০:৩৮:০৭পূর্বাহ্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১০:৩৮:০৭পূর্বাহ্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রায় পৌনে চার কোটি ভোট পেয়ে মোট প্রদত্ত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ অর্জন করেছে এবং ধানের শীষ 🌾 প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ২৯১ প্রার্থীর মাধ্যমে দলটি ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সোয়া দুই কোটির বেশি ভোট পেয়ে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট অর্জন করেছে এবং ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার তিন দিন পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এ ভোটের হিসাব প্রকাশ করে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং গণভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। মোট ৫০টি দল নির্বাচনে অংশ নিলেও ২৯৭টি আসনের মধ্যে মাত্র সাতটি দল আসন পেতে সক্ষম হয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলের ভোটব্যাংক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষক আবদুল আলীমের মতে, বিগত সরকারের সময় নানা দমন-পীড়ন ও মামলার কারণে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি বেড়েছে, যা তাদের ভোট বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দল ভাঙার নানা চেষ্টা হলেও বিএনপি সংগঠনগতভাবে টিকে ছিল এবং বিদেশে অবস্থান করেও নেতৃত্ব পরিচালনার কারণে দলটির প্রতি সমর্থকদের আস্থা অটুট ছিল। পাশাপাশি দলীয় চেয়ারপারসনের আপসহীন অবস্থান এবং নানা রাজনৈতিক চাপ প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টিও ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। জামায়াতের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দলটি অতীতে নিষিদ্ধ হওয়া ও নিবন্ধন বাতিলের ঘটনার ফলে একটি সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি হয়, যা এবারের নির্বাচনে তাদের ভোট বাড়াতে সহায়তা করেছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দলটির সর্বোচ্চ আসন ছিল ১৮টি, কিন্তু এবার তা ছাড়িয়ে তারা রেকর্ড ৬৮টি আসন পেয়েছে। এদিকে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণার পর বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন এবং জামায়াত পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে দুটি এবং খেলাফত মজলিশ একটি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির জোটে থাকা গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি এবং গণসংগতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে। জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন। সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি এবং স্বতন্ত্ররা পাবে একটি আসন। গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ অনুমোদিত হওয়ায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের পথও উন্মুক্ত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা হবে ১০০ এবং সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন করা হবে। সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী উচ্চকক্ষে বিএনপি পেতে পারে ৫০টি আসন, জামায়াত ৩২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তিনটি, জাতীয় নাগরিক পার্টি তিনটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ দুটি এবং স্বতন্ত্ররা ছয়টি আসন পেতে পারে। তবে দুই আসনের ফলাফল এখনো বাকি থাকায় এই সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে বর্তমান সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন ধীরে ধীরে ১০০টিতে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে। জুলাই সনদ অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের মেয়াদ হবে শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর, তবে কোনো কারণে নিম্নকক্ষ ভেঙে গেলে উচ্চকক্ষও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

reporter