ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৮ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

মানুষের আস্থা অর্জনই বিচার বিভাগের প্রধান লক্ষ্য : প্রধান বিচারপতি

reporter

প্রকাশিত: ০৬:০০:৫৫অপরাহ্ন , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৬:০০:৫৫অপরাহ্ন , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, জনগণের আস্থা অর্জন করাই বিচার বিভাগের প্রধান দায়িত্ব। ন্যায়বিচার পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার, এটি কোনো রাষ্ট্রীয় অনুগ্রহ নয়।

বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীর হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে অনুষ্ঠিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা বিষয়ক আঞ্চলিক সেমিনার’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

প্রধান বিচারপতি তাঁর বক্তৃতায় বলেন, দেশের আদালত ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জন্য মামলার জট কমাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল কেস ম্যানেজমেন্ট এবং বিচারকদের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সক্রিয় উদ্যোগের কারণেই দ্রুততম সময়ে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্তর্বর্তী সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতার ফলে দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারকের নতুন পদ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিকট ভবিষ্যতে মামলার জট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করেছে। এছাড়া বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাথমিক কাজও শেষ হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতি হয়েছে তার চিত্র তুলে ধরেন।

সেমিনারে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আর্লড গুলব্রান্ডসেন, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলার।

এ সেমিনারের আগে প্রধান বিচারপতি ইউএনডিপির প্রতিনিধিদের নিয়ে বরিশাল জজ আদালত ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। প্রায় এক ঘণ্টার এই পরিদর্শনে তিনি আদালতের ন্যায়কুঞ্জ, লিগ্যাল এইড সেন্টারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখান প্রতিনিধি দলকে।

পরিদর্শন শেষে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ শেখ ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ইউএনডিপির উদ্যোগে বিভাগীয় শহরগুলোতে আয়োজিত আঞ্চলিক সেমিনারে অংশ নিতে প্রধান বিচারপতি বরিশালে আসেন। তিনি আদালতের কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে ইউএনডিপির প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করেছেন যে, এদেশের দরিদ্র ও অসহায় জনগণ যেন সহজে ন্যায়বিচার পেতে পারে, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

reporter