ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৩ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

হাসিনার পথে অলি, নেপালে নতুন গণঅভ্যুত্থানের জয়ধ্বনি

reporter

প্রকাশিত: ০৬:৩৬:১৬অপরাহ্ন , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০৬:৩৬:১৬অপরাহ্ন , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচারী শাসন টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এক বছরের মাথায় প্রায় একই দৃশ্যপট দেখা গেল নেপালে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি জনরোষের মুখে ক্ষমতা হারাতে বাধ্য হলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার সিদ্ধান্তই তার পতনের সূচনা ঘটায়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি জনগণের দাবি অগ্রাহ্য করেন এবং শেষ পর্যন্ত জনতার অভ্যুত্থানের মুখে নিজেই বিপদের দিকে ঠেলে দেন।

বাংলাদেশের মতোই নেপালের ঘটনাবলিও নাটকীয় মোড় নেয়। শেখ হাসিনা গণআন্দোলনের চাপে ভারতে পালিয়ে যান। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রীও একই পথ অনুসরণ করে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ যেমন একসময় মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে গণআন্দোলনের অগ্রভাগে ছিল, সেই দলকেই গণবিপ্লবের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। একইভাবে নেপালের কমিউনিস্ট পার্টি (ইউনিফাইড মার্ক্সিস্ট-লেনিনিস্ট), যারা রাজতন্ত্র উৎখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, তারাই পরবর্তীতে জনরোষের শিকার হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হলো।

বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে যেমন তরুণ প্রজন্ম ছিল প্রধান চালিকাশক্তি, নেপালেও তেমন ভূমিকা রাখে জেনারেশন জেড। বাংলাদেশে আন্দোলন শুরু হয়েছিল কোটা সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করে। মুক্তিযোদ্ধা কোটার কারণে মেধাবীদের চাকরির সুযোগ সীমিত হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল শিক্ষার্থীদের। ২০২৪ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্টের একটি আদেশ এই ক্ষোভকে আরও উসকে দেয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে, এবং শেষ পর্যন্ত তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।

নেপালে প্রথমে প্রতিবাদ শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে। তবে তা দ্রুতই সরকারের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। “নেপো কিডস” হ্যাশট্যাগ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, যখন সাধারণ মানুষ মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ও নেপাল উভয় দেশেই আন্দোলন দমাতে সরকার কঠোর দমননীতি গ্রহণ করে। বাংলাদেশে দেড় হাজারেরও বেশি আন্দোলনকারী নিহত হয় বলে দাবি ওঠে। তবে ব্যাপক প্রাণহানি আন্দোলনের গতি থামাতে ব্যর্থ হয়, বরং ঢাকার বাইরেও তা বিস্তার লাভ করে। লাখো মানুষের ঢল সরকারকে বেকায়দায় ফেলে, এবং শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে।

নেপালেও একই রকম দৃশ্য দেখা যায়। কাঠমান্ডুতে সেনা ও দাঙ্গা পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর দমন চালায়। এ ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়। তবে এ হত্যাযজ্ঞ আন্দোলনকে দমন না করে আরও বেগবান করে তোলে। আন্দোলন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। প্রধানমন্ত্রী অলি প্রথমে পদত্যাগে অনীহা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত তার সামনে আর কোনো বিকল্প থাকেনি।

বাংলাদেশ ও নেপালের এই অভ্যুত্থান দুটি প্রমাণ করেছে যে তরুণ প্রজন্ম সামাজিক ন্যায্যতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে পিছপা নয়। উভয় দেশেই শিক্ষার্থীদের দৃঢ় অবস্থান ও জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ স্বৈরাচারী শাসনকে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ যেমন নেপালের জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছে, তেমনি নেপালের গণঅভ্যুত্থানও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

reporter