ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪২ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

আলোচনার টেবিলেই সংকট সমাধানের আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের

reporter

প্রকাশিত: ১১:১৩:০৯অপরাহ্ন , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আপডেট: ১১:১৩:০৯অপরাহ্ন , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

-সংগৃহীত ছবি

ছবি: -সংগৃহীত ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাজনৈতিক সংস্কার বা পিআর ইস্যুতে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। এ ধরনের বিষয় আলোচনার টেবিলেই নির্ধারিত হওয়া উচিত। তার মতে, আলোচনার টেবিল রেখে রাজপথে নামা আসলে এক ধরনের স্ববিরোধিতা।

বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কমিশনের এজেন্ডায় পিআর ছিল না। তবুও কেউ যদি রাজনৈতিকভাবে কোনো দাবি তোলে, সেটি তার অধিকার। বিএনপিও রাজপথে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবে। তবে রাজপথে আন্দোলন করে পিআরের মতো বিষয় আদায় করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন আলোচনার টেবিল।

তিনি আরও বলেন, আজকের বৈঠকে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মতামত উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান সরকার সাংবিধানিক কিনা। এ বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টের অভিমতের ভিত্তিতেই সংবিধান মেনে সরকার গঠিত হয়েছে। তাই সংবিধান-সম্পর্কিত যে কোনো বিষয় বাস্তবায়নের আগে বিচার বিভাগের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তার মতে, সাংবিধানিক আদেশ আজ বা কাল চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কিন্তু অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করে জাতির সামনে খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত নয়।

সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব নিয়েও তিনি কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়, তবে একই বিষয়ে দু’বার গণভোট আয়োজন করা যুক্তিসঙ্গত নয়। যারা নির্বাচিত হবেন, তারা জনগণের কাছে সনদে স্বাক্ষর করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। আবার কিছু মৌলিক সংস্কারমূলক বিষয় সংসদীয় গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়নেরও প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনের দিন গণভোট এবং পরে আবার সংসদীয় গণভোট—এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এসব বিষয় একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ করা উচিত।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, যদি নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বা বাধাগ্রস্ত হয়, তবে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা এবং অসাংবিধানিক শক্তিগুলোই সুযোগ নেবে। এটি দেশের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আলোচনার মাধ্যমেই বর্তমান সংকটের সমাধান সম্ভব হবে। সংসদ গঠনের পর যদি মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের প্রয়োজন হয়, তখন গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে। তবে এখনই অযথা জটিলতা সৃষ্টি না করে আলোচনার টেবিলেই সব পক্ষকে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সালাহউদ্দিন আহমদের মতে, রাজনৈতিক অধিকার চর্চা করা সবার অধিকার, তবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে পথ খোঁজা উচিত। আলোচনার বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের সমাধান খুঁজতে গেলে কেবল সংকটই ঘনীভূত হবে।

তিনি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন যে, গণতন্ত্র রক্ষায়, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এবং মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য আলোচনার বিকল্প নেই। গণভোট, সাংবিধানিক সংশোধনী বা বড় কোনো সংস্কার—এসব বিষয় আলোচনার টেবিলেই স্থির করা হলে তা হবে দেশের জন্য মঙ্গলজনক।

reporter