ঢাকা,  বৃহস্পতিবার
২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০২:২১ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* যে তিন শ্রেণির নাগরিক আগে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড * ইরানের হাতে চীনের সিএম-৩০২ সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ * পিলখানায় নিহত সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা * হাসিনা-কামালের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি হতে পারে আজ * শেষ সমাধান সংসদে * ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে উত্তপ্ত ঢাকা-১৩, তীব্র প্রতিক্রিয়া খেলাফত মজলিসের * এক ম্যাচেই বদলে গেল চিত্র, সেমির লড়াইয়ে চাপে ভারত * সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে রদবদল, সিজিএস মাইনুর * নতুন বাংলাদেশের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার: মির্জা ফখরুলের বক্তব্য * আমদানি বাড়লেও রোজার আগে খেজুরের বাজারে ঊর্ধ্বগতি

যে তিন শ্রেণির নাগরিক আগে পাবেন ফ্যামিলি কার্ড

reporter

প্রকাশিত: ১১:২৭:৫২পূর্বাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১১:২৭:৫২পূর্বাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

আগামী ১০ মার্চ দেশের ১৪টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে, যা সরকারের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ফ্যামিলি কার্ড একটি ইউনিভার্সাল পরিচয় ও সুবিধা সংযুক্ত কার্ড হিসেবে চালু করা হচ্ছে, যার আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের সব নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণির নাগরিককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠী। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ভর্তুকি ও আর্থিক সহায়তা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন এবং একই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের তথ্য সংরক্ষণ ও যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে ম্যানুয়ালি তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে এবং সংগৃহীত তথ্য একটি সমন্বিত সফটওয়্যার সিস্টেমে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়। ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া অফলাইন ও অনলাইন—উভয় পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যাবে, ফলে শহর ও গ্রামের নাগরিকরা সমানভাবে সুবিধা পাবেন। সরকার স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে এই কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে এবং কোনো ধরনের ফি বা অর্থ প্রদানের প্রয়োজন নেই। ইতোমধ্যে একটি অসাধু চক্র ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা সম্পূর্ণ প্রতারণা বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। কেউ যদি এ ধরনের অর্থ দাবি করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উপকারভোগীদের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হবে এবং যে কোনো অনুমোদিত ব্যাংক থেকে তারা প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন, ফলে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য এই কার্ড প্রযোজ্য হবে এবং কোনো ধরনের সুপারিশ বা তদবিরের প্রয়োজন হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে একই কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতা, সহায়তা ও সুবিধা প্রদান করা, যাতে প্রশাসনিক জটিলতা কমে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা দ্রুত সহায়তা পান। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ফ্যামিলি কার্ড দারিদ্র্য হ্রাস, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং সরকারি সহায়তার অপব্যবহার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সরকার বলছে, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডাটাবেস গড়ে তোলা হবে, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ ও সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সহায়ক হবে। এ উদ্যোগকে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোয় একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে সবার জন্য একটি একক পরিচয়ভিত্তিক সুবিধা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

reporter