ছবি: ফাইল ছবি
আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও নকল বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা বজায় রাখতে এবার মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদারকি নিশ্চিত করা হবে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষা বোর্ড, প্রশাসন ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শিগগিরই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীর মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবনে এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ইফতার-পরবর্তী আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে এবং এ পরীক্ষাকে নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও অতীতের মতো এবারও সফলভাবে তা বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কেউ যদি প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেও মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ তার মতে দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য একই মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন এবং বিশ্বের অনেক বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাও অভিন্ন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে আগামী বছর থেকে কীভাবে এই পদ্ধতি চালু করা যায়, তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিজের ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে মনে করেন এবং আগামী ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এমন একটি ভিত্তি গড়ে তুলতে চান, যার প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তার লক্ষ্য ধীরস্থিরভাবে কাজ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ভুল পদক্ষেপের কারণে শিক্ষা খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তিন স্তরের একটি স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার বাধ্যবাধকতা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ১৫ থেকে ১৭ বছরে বিভিন্ন কারণে বঞ্চিত অনেক শিক্ষকের জন্য সুযোগ তৈরি করতেই এই অভিজ্ঞতার সময়সীমা যৌক্তিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনকে তিনি নিজের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাজের গতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রচলিত ধীরগতির মানসিকতা থেকে বের হয়ে এসে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করতে হবে, কারণ তারা এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস ও নকলমুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং দেশের শিক্ষার্থীরা একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগত পরীক্ষাব্যবস্থার সুবিধা পাবে।
reporter

