ঢাকা,  শনিবার
১৪ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৪৯ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে বিএনপি সরকার * যুক্তরাষ্ট্রকে চমকে দিচ্ছে ইরানের পাল্টা আঘাত, বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের হিসাব * মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন * ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী * পাকিস্তানকে হেসেখেলে হারাল বাংলাদেশ * অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪: ৪০তম ধাপে ইসরায়েলে ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা * শুধু জুলাই জাতীয় সনদ নয়, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী * ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে থাকছে যেসব কার্যসূচি * স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার : অভিজ্ঞরা পাবেন অগ্রাধিকার * জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হবে না : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

reporter

প্রকাশিত: ১২:১৬:৫৬অপরাহ্ন , ১৪ মার্চ ২০২৬

আপডেট: ১২:১৬:৫৬অপরাহ্ন , ১৪ মার্চ ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের আওতায় দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সেবাদানকারী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে মন্দিরের পুরোহিত ও সেবায়েত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার পালক বা যাজকদের জন্যও সম্মানী প্রদানের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের হাজার হাজার ধর্মীয় সেবককে এই সম্মানীর আওতায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় সেবার পরিবেশ আরও সুসংহত হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এই সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও সম্মানী প্রদান করা হবে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম পাবেন ২ হাজার টাকা। অপরদিকে প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পুরোহিত পাবেন ৫ হাজার টাকা এবং সেবায়েত পাবেন ৩ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতিটি বৌদ্ধবিহারের জন্য ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে বিহার অধ্যক্ষ ৫ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা করে পাবেন। খ্রিস্টান গির্জার ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ থাকবে, যেখানে প্রধান পালক বা যাজক ৫ হাজার টাকা এবং সহকারী পালক বা যাজক ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী হিসেবে পাবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি প্রদান করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিয়মিতভাবে তাদের সম্মানী গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের বছরে দুইবার এক হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বৌদ্ধপূর্ণিমা কিংবা বড়দিন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য দুই হাজার টাকা করে বোনাস দেওয়া হবে। তবে যেসব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সরকারি বা দেশি-বিদেশি কোনো সংস্থার অনুদান পাচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠান এই সুবিধার আওতায় থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা জানান, চলতি অর্থবছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ভবিষ্যতে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রতি অর্থবছরে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার পরিকল্পনা করেছে, চার বছর ধরে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এর সুবিধা পেতে পারেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই উদ্যোগ ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করবে।

reporter