ছবি: সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে “অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪”-এর ৪০তম ধাপে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলার খবর পাওয়া গেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্র ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধাপে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়, যার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত অবকাঠামো। হামলার পর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে, যদিও কিছু এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। অপরদিকে ইরানপন্থী বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, এই হামলা ছিল সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপের অংশ এবং এর মাধ্যমে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে হামলায় অংশ নেয় বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে হামলার পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং গাজা সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সামরিক তৎপরতায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক মহলেও পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং বিভিন্ন দেশ শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও সংঘাতের উত্তাপ এখনো কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, “অপারেশন ট্রু প্রমিজ” নামে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে ইসরায়েলও প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আঘাতের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখার চেষ্টা করছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতি যে কোনো সময় আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
reporter

