ছবি: ফাইল ছবি
জুলাইয়ে সংঘটিত রাজনৈতিক গণ-অভ্যুত্থানকালীন সময়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট ২৮ ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিয়েছে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, অবৈধ আটক, নির্যাতন এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগের বিবরণ সংযুক্ত রয়েছে। মামলার পটভূমিতে উল্লেখ করা হয় যে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, বিক্ষোভ এবং পাল্টাপাল্টি অবস্থান তৈরির ফলে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয় এবং মোহাম্মদপুর এলাকাকে সে সময় অন্যতম রাজনৈতিক উত্তেজনাকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আলোচিত মামলার অভিযোগ দাখিলের মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলো, যদিও অভিযোগ দাখিল মানেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়; বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণ, জেরা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল নিরপেক্ষ বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রদান করবে। দাখিল করা অভিযোগে ভোট, নির্বাচন ও ক্ষমতার পালাবদল ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ভূমিকা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতি বিবেচনায় বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দল ও পক্ষের বিবৃতি, ঘটনাবলির সময়রেখা, মাঠপর্যায়ের তথ্য, ভিডিও ফুটেজ, মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলবে এবং পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িতও হতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাগুলোতে স্বভাবতই সময়সাপেক্ষ ও বিস্তৃত আইনি যাচাই-বাছাই প্রয়োজন হয়। এদিকে অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়টি নির্বাচনী প্রক্রিয়া, দলীয় কৌশল ও সমর্থকদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, বিশেষ করে যখন জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে এবং বিভিন্ন দল সম্ভাব্য জোট, প্রচারব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় বার্তা এবং জনসম্পৃক্ততা ঘিরে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অভিযোগকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন—প্রসিকিউশন বলছে এটি আইনের স্বাভাবিক প্রয়োগ, আর অভিযুক্তপক্ষের ঘনিষ্ঠরা বলছেন এটি রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্নও তুলতে পারে; তবে অভিযোগ দাখিলের পর থেকে বিষয়টি আদালতের একচেটিয়া কর্তৃত্বাধীন, ফলে সবকিছুই এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার অধীন হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাঁদের যুক্তি, প্রমাণ ও প্রতিরক্ষা উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন। সর্বোপরি, অভিযোগ দাখিলের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানকালীন ঘটনাবলির বিচারিক অনুসন্ধান গভীরতর রূপ নিতে যাচ্ছে এবং আগামী শুনানিগুলোতে আদালত অভিযোগ গ্রহণ, বাতিল বা সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যার ওপর পরবর্তী আইনি পর্যায় নির্ভর করবে।
repoter

