ঢাকা,   বুধবার
২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৫:০৪ মিনিট

Donik Barta

শেষ সমাধান সংসদে

reporter

প্রকাশিত: ১০:৩৭:১২পূর্বাহ্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আপডেট: ১০:৩৭:১২পূর্বাহ্ন, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফাইল ছবি

ছবি: ফাইল ছবি

আন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে জারি করা ১৩২টি অধ্যাদেশের বেশির ভাগই আইনে পরিণত হচ্ছে না, ফলে সেগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারিত হবে জাতীয় সংসদেই। আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় বর্তমান সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে; রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন এবং ইতোমধ্যে সংসদ সচিবালয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে অর্ধশতাধিক হয়তো আইনে রূপান্তরিত হতে পারে, বাকিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, ফৌজদারি অপরাধ, দুর্নীতি দমন, অর্থপাচার, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, রাজস্ব ও বাজেট, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও সুশাসন—এমন নানা খাতে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তাদের সংস্কারনীতি ও নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অধ্যাদেশগুলো এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারঘনিষ্ঠ মহলের ভাষ্য, রাষ্ট্রের গুণগত সংস্কার ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট যেসব অধ্যাদেশ সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়, সেগুলোই আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি অধ্যাদেশ নিয়ে প্রথমে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে পর্যালোচনা হবে—বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেটি কার্যকর ও প্রয়োজনীয় কি না তা নির্ধারণ করবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। প্রয়োজন মনে হলে খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে; সেখানে অনুমোদনের পর তা সংসদে বিল আকারে উত্থাপিত হবে। উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ-২০২৪, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক-সংক্রান্ত সংশোধনী, জেলা ও উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৪ এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কাঠামোয় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, আইনি সহায়তা প্রদান, বন সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন না থাকা অবস্থায় জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন; তবে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে তা আইনে রূপান্তর না হলে অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার এবং দায়িত্ব পালনের ৫৫৯ দিনে মোট ১৩২টি অধ্যাদেশ জারি করে—এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৫টি। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী অধ্যায়ের অবসান ঘটে এবং দেশ পুনরায় পূর্ণাঙ্গ সংসদীয় গণতান্ত্রিক কাঠামোয় প্রত্যাবর্তন করে। এর আগে এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে ১২২টি অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল; পরবর্তী নবম সংসদে সেগুলো একসঙ্গে উত্থাপন করে বিশেষ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয় এবং ৫৪টি আইনে রূপান্তরের সুপারিশ পায়, বাকিগুলো ৩০ দিন পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অধ্যাদেশ মূলত সাময়িক আইন; সংসদীয় অনুমোদন ছাড়া এর স্থায়িত্ব নেই। তাই ১২ মার্চের অধিবেশন শুধু আইন প্রণয়নের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং অন্তর্বর্তী আমলের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর চূড়ান্ত বিচার ও দিকনির্দেশনার ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

reporter