ঢাকা,  মঙ্গলবার
৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৮:৪৭ মিনিট

Donik Barta

শিরোনাম:

* দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবেনা: মামুনুল হক * প্রার্থীদের তথ্য গোপনের কারণে বিএনপি বিপর্যস্ত * আসলাম চৌধুরী ও সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচন করতে কোনো বাধা নেই * যৌন অপরাধী এপস্টেইনের নথি প্রকাশে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় * ভালোবাসায় সিক্ত আমিনুল হক, দ্বাদশ দিনে জনস্রোতে ধানের শীষের প্রচারণা * বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব হবে দেশ পুনর্গঠন * ২২ বছর পর খুলনা সফর, যাবেন যশোরও * ধানের শীষের সমর্থনে ঢাকা–১৬ আসনে ছাত্রদলের মাঠপর্যায়ের গণসংযোগ * ধানের শীষের পক্ষে পাবনা–৩ আসনে গণসংযোগে ছাত্রদল পশ্চিমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি) * মিরপুর–পল্লবীতে গ্যাস সিন্ডিকেট ভেঙে ঘরে ঘরে সংযোগ নিশ্চিতের অঙ্গীকার আমিনুল হকের।

সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় নৌবাহিনীর পুশইন: ৭৮ জন বাংলাভাষী বাংলাদেশে ফেরত

reporter

প্রকাশিত: ০৭:০৫:৫৮অপরাহ্ন , ১১ মে ২০২৫

আপডেট: ০৭:০৫:৫৮অপরাহ্ন , ১১ মে ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা সীমান্তের পশ্চিম সুন্দরবনের মান্দারবাড়ি এলাকায় ভারতের নৌবাহিনী ৭৮ জন বাংলাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে। গত শুক্রবার রাতে শ্যামনগর উপজেলার মান্দারবাড়ি ফরেস্ট টহল ফাড়ির নিকটবর্তী এলাকায় তাদের নামিয়ে দেওয়া হয় বলে তারা জানিয়েছে।

পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের দাবি, তারা ভারতের গুজরাটের একটি বস্তিতে বসবাস করতেন। বৈধ নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়। পুশইনের পর তারা পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের ফরেস্ট স্টেশনে এসে আশ্রয় নেয়।

রেঞ্জ অফিসার মশিউর রহমান জানান, পুশইন হওয়া এসব ব্যক্তি ফরেস্ট স্টেশনে এসে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগ, শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন এবং রিভারাইন বর্ডার গার্ড (আরবিজি)-এর সহায়তায় তাদের জন্য খাবার, ওষুধ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। ৭৮ জনের সবাই কোনো না কোনোভাবে শারীরিকভাবে অসুস্থ, তবে এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

এদের সবাই বাংলাভাষী হলেও তারা বাংলাদেশি নাগরিক কিনা—এই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। রেঞ্জ অফিসার মশিউর রহমান বলেন, "এদের পরিচয় এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। কোস্টগার্ড বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে দেখছে।"

পুশইনের খবর পেয়ে মংলা কোস্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বন বিভাগ তাদের কোস্টগার্ডের হাতে হস্তান্তর করে। রোববার সকালেই তাদের মংলা স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। কোস্টগার্ডের মিডিয়া উইং জানায়, প্রাথমিক পর্যায়ের তত্ত্বাবধান শেষে ওই রাতেই বাসযোগে সকলকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে এর আগেও মাঝে মধ্যে এমন পুশইনের ঘটনা ঘটেছে। এবারকের ঘটনাটি সংখ্যার দিক দিয়ে বড় হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সীমান্ত এলাকায় এমন পুশইন কূটনৈতিকভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তবে সরকারিভাবে এখনো বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিচয় যাচাই এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে।

এদিকে মানবিক দিক বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার প্রশাসন জানায়, খাদ্য চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না এবং তাদের মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ধরনের ঘটনায় সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে চলে আসে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পুশইনকৃত ব্যক্তিদের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, কোস্টগার্ড তাদের শ্যামনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে হস্তান্তর করা হবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে কৌতূহল কিছুটা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা মানবিক বিবেচনার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে।

reporter